মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগির জেরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কিশোর মো. বেলালকে (১৩) হত্যা করা হয়। হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। তারপর পরিচয় গোপন করতে বিচ্ছিন্ন মাথা থেকে চুল কেটে ফেলা হয়। পরে খণ্ড খণ্ড লাশটি পাহাড়ের চূড়ায় মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। এ ঘটনার চার বছর পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সিআইডি।
সোমবার (১১ মে) সিআইডি ইন্সপেক্টর মোশারফ হোছাইন এসব তথ্য জানান। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হাসান ওরফে সোনাইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
সিআইডি চট্টগ্রামের পরিদর্শক মোশারফ হোছাইন বলেন, ভুক্তভোগী বেলালের প্রতিবেশী ও বন্ধু অটোরিকশাচালক পারভেজের মাধ্যমে মাদক পরিবহনের কাজ করতো। লাভের অংশ না পেয়ে পারভেজ ক্ষুব্ধ হয়। পরে স্থানীয় হাসান ওরফে সোনাইয়ার সঙ্গে মিলে বেলালকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডির হাতে আসে। তদন্তভার নিয়ে প্রথমে মো. পারভেজ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়।
গত ৭ মে চট্টগ্রামে সাতকানিয়া থানার বাজালিয়া বাজার থেকে আসামি পারভেজকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে ৮ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় পারভেজ।
সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘বেলালকে অপহরণ করে সাঙ্গু কলেজ মাঠের আড়াষ্যা(লম্বাপানি) নামক এলাকায় নিয়ে যায় পারভেজ। তাকে লম্বা পানি ব্রিজে নিয়ে হাত-পা বেঁধে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তারপর হাসান কুপিয়ে বেলালের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরিচয় গোপন করতে চুল কেটে ফেলা হয়। পরে পাহাড়ের চূড়ায় লাশটি মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়।’
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় সিআইডি।
সিআইডি জানায়, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই পুরানগড় সাঙ্গু কলেজের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে লুডু খেলার সময় হাসানের নেতৃত্বে বেলালকে অপহরণ করা হয়। তারপর নিখোঁজ ছিল সে। ১৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর ওই বছরের ৪ আগস্ট বেলালের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয় পাহাড় থেকে। পুরানগড়ের একটি পাহাড়ি টিলায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শেয়াল লাশ টেনে উপরে তোলে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। দেহ গলে হাড় ও মাথার খুলি বের হয়ে যায়।
আরটিভি/কেডি




