গাজীপুরের শ্রীপুরে সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সালিশে ডেকে নিয়ে ষাটোর্ধ্ব এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জয়নাল আবেদীনকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
সোমবার (১১ মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়নাল আবেদীনের মৃত্যু হয়। পরে মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যার পর তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান গ্রামের মৃত নইমুদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।
নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে তার বাবাকে শনিবার ফাওগান বাজারে সালিশে ডাকা হয়। পরে প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তাকে (জয়নাল আবেদীন) স্কুল মাঠে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। মোট তিন দফা পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর বাজারের পাশে তমিজ উদ্দিনের ফার্মেসির সামনে তারা বাবাকে ফেলে রেখে যায়।
তিনি আরও জানান, এরপর ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তাদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও তারা নিয়ে যেতে দেয়নি। অনেক কষ্ট করে উদ্ধার করে বাড়ির কাছে নিয়ে গেলে পুনরায় হামলা করে তারা বাবাকে মারধর করে।
নিহতের আরেক ছেলে মনির হোসেন বলেন, বাবাকে ডেকে নেওয়ার পরপরই ইউপি সদস্য রাশিদুল ইসলাম মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বাবার অণ্ডকোষ চেপে মৃত্যু নিশ্চিতের চেষ্টা করে। কয়েক দফা বাবাকে মারধর করার পর একটি অটোরিকশাযোগে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১১ মে) সকালে বাবা মারা যান।
তিনি বলেন, বাবাকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে খুন করল একটি চক্র।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ইউপি সদস্য ডেকে নেওয়ার পরপরই ধর্ষণের সাজানো মিথ্যা অভিযোগ তুলে জয়নাল আবেদীনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করলো। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল পিটিয়ে একজনকে হত্যা করেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ মামলা দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করা হবে।
ওসি বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
আরটিভি/আইএম




