শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ১০:১৫ এএম


শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষিকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

ভুক্তভোগী বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তার সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময় আপত্তিকর ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে মানসিক চাপে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লুৎফা আক্তার জানান, বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাসকে জানালে তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করবেন না। এমনকি তিনি বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ভিজিটে যাবেন না বলেও আশ্বস্ত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি আর না বাড়ানোর এবং এ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট বা প্রমাণ প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষিকা।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তার আচরণ আরও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাক-প্রাথমিকের ফোর প্লাস প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি আক্তার সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তারের নাম প্রস্তাব করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পরিচয়ে ওই প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি আক্তার বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রশিক্ষণের জন্য একজন শিক্ষকের নাম চাওয়া হলে তিনি সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তারের নাম প্রস্তাব করেন। পরে তারা জানতে পারেন, শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজিরা বেগমকে ওই প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। অথচ চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে তিনি শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, সুলেমান মিয়া তাহিরপুরে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছেন। তিনি সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপির বোনের স্বামী পরিচয় দিয়ে প্রভাব দেখান। যোগদানের পর সুনামগঞ্জ শ্বশুরবাড়ি পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষকদের অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগেও এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া বলেন, আমার মানহানি করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যেকোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রশিক্ষণে পাঠাতে পারি। কাকে পাঠাব সেটা আমার বিষয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাস বলেন, সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সহকারী শিক্ষিকা সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটি থেকে আসলে তার মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission