বিয়ের সানাইয়ের বদলে রাঙ্গুনিয়ার সেই বাড়িতে শোকের মাতম

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০৩:৩২ পিএম


বিয়ের সানাইয়ের বদলে রাঙ্গুনিয়ার সেই বাড়িতে শোকের মাতম
ছবি : আরটিভি

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর বান্দারাজার পাড়া এলাকার সেই বাড়িটিতে উৎসবের আমেজ থাকার কথা ছিল। দুই ভাই সিরাজ ও শহিদের আজ (শুক্রবার) দেশে ফেরার কথা ছিল। তাদের আগমনে ছোট ভাই এনামের বিয়ে ও ঘরে নতুন বউ আসার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে বিয়ের সেই রঙিন স্বপ্নগুলো এখন ধূসর কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। যে বাড়িটিতে বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন চার সহোদরের লাশের জন্য চলছে অপেক্ষা।

এর আগে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ওমানের আল মিলাদ্দাহ এলাকায় পার্কিংয়ে রাখা একটি প্রাইভেট কারে ওই দুই ভাইসহ তাদের আরও দুই বড় ভাই মুহাম্মদ রাশেদ ও মুহাম্মদ সাহেদ প্রাণ হারান। জানা গেছে, গাড়ির ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গ্যাস লিকেজে তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

মৃত্যুর আগে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে সিরাজ তার এলাকার প্রবাসী বন্ধু পারভেজকে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলা সেই আর্তনাদ ছিল এমন– ‘পারভেজ তুরা কোথায়… তুর কাছে গাড়ি আছে না? থাকলে একটু মুলাদ্দা আয়। আমার বদ্দাকে (বড় ভাইকে) ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছি। এখন আমরা গাড়ি থেকে নামতে পর্যন্ত পারছি না… আমরা চারজনও পারছি না… কাউকে নিয়ে আসো।’ সেই আকুতি পারভেজের কাছে পৌঁছালেও ততক্ষণে চার ভাইয়ের মারা গেছেন। এই ভয়েস রেকর্ড এখন ভাইরাল হয়ে ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

এদিন চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর আসতেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

আরও পড়ুন

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহগুলো ওমান পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। 

দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, স্পন্সরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ডেথ সার্টিফিকেট দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে চার সহোদরের নিথর দেহ কফিনে চড়ে দেশে পৌঁছাবে। 

দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসী ভাইদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে এসি চালিয়ে বসে থাকলে যেন অবশ্যই জানালার গ্লাস সামান্য খোলা রাখা হয়। এতে বিষাক্ত গ্যাস বের হওয়ার সুযোগ পাবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) একমাত্র বেঁচে থাকা ভাই এনাম শোকে বাকরুদ্ধ। অসুস্থ মা ফরিদা বেগমকে এখনো ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি জানানো হয়নি; তার শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে বাড়ির ভেতর কিংবা উঠানে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবুও শত শত মানুষ ভিড় করছেন সেই উঠানের বাইরে রাস্তায়, যেখানে কয়েকদিন পরই বিয়ের পেন্ডেল হওয়ার কথা ছিল।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission