দিনাজপুরের হিলির এলএসডি গোডাউনের সামনের সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের ইটের খোয়া (রাবিশ) ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা ও স্থানীয়দের তীব্র আপত্তির তোয়াক্কা না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। এতে করে সড়কটির স্থায়িত্ব এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, দিনাজপুরের হিলির এলএসডি গোডাউনের ১নং গেটের সামনে হাকিমপুর-হিলি পৌরসভার মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রজেক্টের আওতায় রাস্তার দুই পাশে ১৯০ মিটার ইউনিব্লকের কাজ চলছে। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৮৬ টাকা। এই কাজে সড়কটির বেজ (ভিত্তি) তৈরিতে যে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে তার সিংহভাগই অতি নিম্নমানের। কাজের শুরুতেই বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।
হিলি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী প্রধানসহ একাধিক পথচারী অভিযোগ করে বলেন, রাস্তায় যে খোয়া দেওয়া হচ্ছে তা হাত দিয়ে চাপ দিলেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। বাধা দেওয়ার পর ঠিকাদারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এসব নিম্নমানের খোয়া তুলে নিয়ে ভালো খোয়া দেওয়া হবে। পরের দিন নিম্নমানের খোয়া কিছু অংশ থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং নতুন যেসব খোয়া নিয়ে আসেন সেগুলোও নিম্নমানের।
তিনি আরও বলে, নিয়ম অনুযায়ী রাস্তায় নির্দিষ্ট গ্রেডের ভালো মানের ইটের খোয়া ব্যবহার করার কথা থাকলেও, ঠিকাদার অধিক মুনাফার আশায় সরকারি সিডিউলকে তোয়াক্কা করছেন না। তড়িঘড়ি করে এই নিম্নমানের কাজ শেষ করে বিল তুলে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এর ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মোটা অঙ্কের টাকার এই সড়কটি আবারও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবে।
ঠিকাদার লিটন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি কাওছার রহমান বলেন, রাস্তায় কোন নিম্নমানের খোয়া বা সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। তারা ভালো মানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করছেন। তবে, প্রথমে তারা কিছু খারাপ মানের খোয়া ব্যবহার করেছিলেন তা উঠিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে ভালো মানের খোয়া দিয়ে কাজ চলছে।
এদিকে হাকিমপুর-হিলি পৌরসভার সহাকরী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, হিলির গোডাউন মোড়ের পাশে রাস্তার কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছিলো। পরে খবর পেয়ে নিম্নমানের খোয়া তুলে ফেলা হয়েছে। তবে, এখন যে খোয়া দিয়ে কাজ হচ্ছে সেখানেও কিছু রাবিশের পরিমাণ বেশি রয়েছে। আবারও ঠিকাদারকে বলা হয়েছে রাবিশযুক্ত খোয়া তারা আর ব্যবহার করবে না। রাস্তার ১৯০ মিটারের ইউনিব্লকের কাজে কোন প্রকার অনিয়ম আমরা মেনে নিবো না। আর নিম্নমানের কাজ করার কোন সুযোগ নেই।
আরটিভি/এমএম




