মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী অনুপস্থিত, তুলছে বিল-ভাতা

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ১১:২৬ এএম


মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী অনুপস্থিত, তুলছে বিল-ভাতা
তাফালবাড়ীয়া হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার। ছবি: আরটিভি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সাপলেজার তাফালবাড়ীয়া হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানে লাগাতার অনুপস্থিত থাকা অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তাফালবাড়ীয়া হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ি প্রধান আবু তৈয়ব ২০২৫ সাল থেকে একনাগাড়ে চার মাস অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১০ দিন উপস্থিত থাকলেও ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং মে মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। ওই ইবতেদায়ি প্রধান গত বছরের চার মাস এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিল-ভাতা তুলে নিয়েছেন।

অপরদিকে ওই মাদ্রাসার প্রভাষক (ইতিহাস) আলমগীর হোসেন ও প্রভাষক (ইংরেজি) মারুফ হোসেন একইভাবে ২০২৫ সালে চার মাস এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত হাজিরা খাতায় কোনো স্বাক্ষর করেননি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ১৫ দিন এবং মে মাসে ১৪ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। অফিস সহকারী খোকন হাওলাদার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসে ২৫ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। অফিস সহকারী রাবেয়া বেগম এপ্রিল মাসে দুই দিন ক্লাস করেন, বাকি ২২ দিন অনুপস্থিত ছিলেন এবং হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বেতন-ভাতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অপচয় হয়েছে। ক্লাস না করে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা তুলে নেওয়ার ঘটনায় ছাত্র-অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত প্রভাষক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একাধিক হাজিরা খাতা রয়েছে। অন্য হাজিরা খাতায় আমি স্বাক্ষর করেছি।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়া বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, ইবতেদায়ি প্রধান, দুইজন প্রভাষক ও তিনজন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। হাজিরা খাতায় কোনো স্বাক্ষর নেই। অথচ মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম দেড় লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বিল-ভাতা অনুমোদন করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনের মুঠোফোনে কল করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু ইশা বলেন, ইবতেদায়ি প্রধান এবং আলমগীর হোসেন ও মারুফ হোসেন নামে দুইজন প্রভাষক লাগাতার অনুপস্থিত। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় কোনো স্বাক্ষর নেই। একাডেমিক সুপারভাইজার মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিল-ভাতা তুলে নেওয়ার সহযোগিতা করেছেন। তিনিই সরকারের আর্থিক ক্ষতির মূলহোতা। অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন। আমি নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের বিলে স্বাক্ষর করেছি। এরপর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের বিলে স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিলে বিলের কাগজ ফেরত আসে। ব্যাংক ম্যানেজার জানান, ইউএনও অফিস থেকে চিঠি দিয়ে আপনার স্বাক্ষরে বিল-ভাতার টাকা উত্তোলনে আপত্তি দেওয়া হয়েছে। সে কারণে আপনার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা যাবে না।

উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতা একটি মানবিক বিষয়। মাদ্রাসা সঠিকভাবে পরিচালনার শর্তে মাওলানা রুহুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে বেতন-ভাতা ছাড় দেওয়া হয়েছে। বেতন-ভাতা অবৈধভাবে তুলে নিলে বিল প্রস্তুতকারী কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়ী থাকবেন।

পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক তাপস বলেন, গত ১৮ এপ্রিল তাফালবাড়ীয়া আলিম মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে সাতজন অনুপস্থিত। অনুপস্থিত থেকে মাস শেষে অবৈধভাবে বিল-ভাতা তুলে নিচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মাদ্রাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রার আ. রশীদ জানান, প্রতিষ্ঠানে লাগাতার অনুপস্থিত থেকে সরকারি বিল-ভাতা তুলে নেওয়া নীতিমালার পরিপন্থী এবং এক ধরনের দুর্নীতি। কমিটি ও উপজেলা প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission