গভীর রাতে প্রভাষক স্বামীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল স্ত্রীর

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতি‌নি‌ধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ , ১০:৩৯ এএম


গভীর রাতে প্রভাষক স্বামীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল স্ত্রীর
তাড়াশ থানা। ছবি: আরটিভি

পারিবারিক কলহের জেরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রভাষক স্বামীর ছুরিকাঘাতে মোছা. আতিকা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া সরকার পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোছা. আতিকা খাতুন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বাঘলবাড়ি গ্রামের মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনির মেয়ে এবং হামকুড়িয়া গ্রামের মো. এন্তাজ আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী। 

আতিকা-মামুন দম্পতির ছয় বছর বয়সী এক ছেলে ও ১৬ মাস বয়সী দুটি জমজ মেয়ে আছে। আব্দুল্লাহ আল মামুন উল্লাপাড়া উপজেলার মুরাদ নগর ফাজিল মাদরাসার ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

নিহতের ভাই মো. জাহিদ হাসান ও তাড়াশ থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর পূর্বে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বাঘলবাড়ি গ্রামের মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনির অনার্স পাশ মেয়ে মোছা. আতিকা খাতুনকে বিয়ে করেন তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের মো. এন্তাজ আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। 

বিয়ের কয়েক মাস পরপরই স্বামী মামুন তার মা ও স্বজনদের কথায় নানাভাবে স্ত্রী আতিকা খাতুনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল,  যা নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিক সালিশে মীমাসাংও হয়েছে। 

কিন্তু মামুন আতিকাকে নির্যাতন বন্ধ করেননি। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আবারও আতিকা খাতুনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন মামুন। যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে এবং এক পর্যায়ে রাত তিনটার দিকে ঘরে রাখা ধারালো ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করেন।

এ সময় আতিকার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসেন এবং মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভোরের দিকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক আতিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মৃত ঘোষণার পরপরই ঘাতক স্বামী মামুন পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন

খবর পেয়ে নিততের বাবা, ভাই এবং স্বজনরা সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। পরে ঘটনাটি পুলিশ কেস হওয়ায় নিহত আতিকার ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা মরদেহ বুঝে নেন।

নিহত আতিকার বাবা ওসমান গনি বলেন, বিয়ের পরপরই স্বামী মামুন তার মা ও স্বজনদের কথায় নানাভাবে আমার মেয়ে আতিকা খাতুনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। যা নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসাও হয়েছে। এমনকি মেয়ের সুখের কথা ভেবে আমি ঋণ করে জামাইকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ডোনেশান দিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার মুরাদনগর ফাজিল মাদরাসার ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাষক হিসেবে চাকরি নিয়ে দিই। অথচ সেই অকৃতজ্ঞ ছেলে আমার মেয়েকে হত্যা করলো। আমি ঘাতক মামুন ও তার পরিবারের নির্যাতন করা সদস্যদের উপযুক্ত বিচার চাই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, নিহতের শরীরে ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাই এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission