খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানি ও তার দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার দারুল আমান মহল্লার একটি বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার হয়।
নিহতরা হলেন বেবি বেগম (৬৫), তার নাতি শামীম ব্যাপারী (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বাসাটির একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেবি বেগম, শামীম ও মুস্তাকিমের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ডিবি ও সিআইডির সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত শামীম ও মুস্তাকিম ফাতেমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে বেবি বেগম ও শামীম ব্যাপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মুস্তাকিমকে নিখোঁজ মনে করা হচ্ছিল। পরে কক্ষের একটি ওয়ারড্রোবের তালা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রফিকুল ইসলামের বাড়ি মহানগরীর দৌলতপুর থানার মানিকতলা এলাকায়। পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৪ বছর আগে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তার প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর (৪৫) ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর তাদের সন্তান শামীম এবং মুস্তাকিম তার মা ফাতেমা বেগমের সাথে বসবাস করছিল।
আরটিভি/আইএম



