নদীতে তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

মুন্সিগঞ্জ (পশ্চিম) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ৩১ মে ২০২৬ , ০৯:২৭ পিএম


নদীতে তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য
ছবি: কোলাজ আরটিভি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টায় মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৯ মে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। মরদেহ পচে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

নিহত হালিমা আক্তার (১৯) গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তে আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), আলামিন প্রধান (৫০) ও রাসেল মিয়াকে (৪৪) শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

image

পিবিআই জানায়, নিহতের কাছে আবু কালামের প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া আসামি জামালের সঙ্গে ভিকটিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ পেলে সামাজিকভাবে মানহানির আশঙ্কা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে চার আসামি মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীর পাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকায় নদীর ওপারে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলায় পোশাক পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানানো হয়।

পিবিআই আরও জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission