ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

অবশেষে খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির স্থানান্তর

বাগেরহাট প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা সেই নারী কুমিরটিকে অবশেষে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিরটির আক্রমণে আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হলে প্রশাসন, বন বিভাগ ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির কুমির দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত ছিল। একসময় মাজারের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত ‘ধলাপাহাড়’ ও ‘কালাপাহাড়’ নামে দুটি কুমির ছিল এই দিঘিতে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ভারত থেকে আনা কুমিরগুলো এখানে অবমুক্ত করা হয়। শত শত বছর ধরে কুমিরকে ঘিরে নানা কিংবদন্তি ও ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত থাকলেও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে চলে আসে।

গত সোমবার রাতে মাজার সংলগ্ন দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারায় শিশু ফাতেমা। ওই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও বিভিন্ন মহলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় জনস্বার্থে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বুধবার সকাল থেকে বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞ, বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্বপাড়ের একটি ছোট পুকুরে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ কৌশলে প্রাণীটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় কুমিরটির হাত-পা ও চোখ বেঁধে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগের গাড়িতে করে সেটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এদিকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাজার এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে অনেক দর্শনার্থী আবারও দিঘির ঘাটে যেতে শুরু করেন।

ঢাকা থেকে মাজার জিয়ারতে আসা মো. সোহেল রানা বলেন, শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনা খুবই হৃদয়বিদারক ছিল। কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এখন পরিবার নিয়ে এখানে আসতে কিছুটা নিরাপদ মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

খুলনা থেকে আসা দর্শনার্থী মো. আব্দুর রহিম বলেন, ঐতিহ্য অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে, তবে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা সবার আগে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী হয়েছে।

দর্শনার্থী রোকসানা বেগম বলেন, ঘটনার পর থেকে সন্তানদের নিয়ে ঘাটের কাছে যেতে ভয় লাগছিল। কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত বোধ করছি।

আরেক দর্শনার্থী মাধবী রানী পাল বলেন, মাজারে প্রতিবছর আসি। এমন দুর্ঘটনা আর যেন না ঘটে, সে জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত প্রাণীটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র। তাই ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এমন কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে দিঘির চারপাশে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার হৃদয় দেখে বিচার করবেন। আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। মোটা কাপড়, সিম্পল জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ঢেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে তার (তারেক রহমান) সঙ্গে খেয়ে এসেছি। 
‘শেখ হাসিনার দুপুরের খাবার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়’
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, পর্যায়ক্রমে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এ কার্ড বিতরণে কেউ অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তা আমাদের জানাবেন। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে। কাজেই কাউকে দৌড়াদৌড়ি বা তদবির করার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বিএনপি যখন যা বলি, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজ সেটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম। টাঙ্গাইল থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটির উদ্বোধন করেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিতদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাত মাসে এই সরকার নির্বাচনের প্রতিটি ওয়াদা পূরণ করে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেউ কেউ বেহেশতের টিকিট পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। এ ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। কাউকে মিথ্যা আশ্বাস দিই না। টাঙ্গাইলের উন্নয়নে আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা হবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক সহযোগিতা করবে প্রশাসন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হক সানু এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপজেলা মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া চালের ডিও বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক অনুদান বিতরণ কার্যক্রমেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আরটিভি/টিআর
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
‘টাকা নিয়ে’ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
‘তিনটি গ্রাম টাকা দিয়ে কিনে এনেছি, মহেন্দ্র নগর কিনে আনছি। দুই গ্রামের টাকা নেতারা ভাগ নেবে। নেতারা টাকা খেয়ে ফেললে আমার কোনো গন্ধ বের হবে না। তোমার কাছে পাঁচ টাকা খেলে গন্ধ বের হবে। সবাই মিলে খেয়ে ফেললে আমার কিছু হবে না।’ এ সময় টাকা কম দিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর কয়টা দিন অপেক্ষা করো, ১০ হাজার টাকা দিয়েও পাবে না।’ বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের এমন কথোপকথনের কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও কার্ডপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আল আমিন উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকার ১৩ নম্বরে রয়েছেন। ধনপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাতলা গ্রামের শহিদ নুরের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিন। তাদের কথোপকথনের কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর চার হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে নগদ এক হাজার টাকা আল আমিনের হাতে তুলে দেন শহিদ নুর। টাকা দেওয়া ও ভিডিও ধারণের ঘটনাটি প্রায় এক সপ্তাহ আগের। তবে ভিডিওটি সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা ও শোনা যায়, একটি আধাপাকা দালানঘরের ভেতরে বসা শহিদ নুরের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টাকা দাবি করছেন আল আমিন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এই টাকা শুধু তিনি একা নেন না; নেতাদেরও ভাগ দিতে হয় এবং সবাই মিলেমিশে খান। একপর্যায়ে আল আমিনকে বলতে শোনা গেছে, ‘তিনটি গ্রাম টাকা দিয়ে কিনে এনেছি, মহেন্দ্র নগর কিনে আনছি। দুই গ্রামের টাকা নেতারা ভাগ নেবে। নেতারা টাকা খেয়ে ফেললে আমার কোনো গন্ধ বের হবে না। তোমার কাছে পাঁচ টাকা খেলে গন্ধ বের হবে। সবাই মিলে খেয়ে ফেললে আমার কিছু হবে না।’ এ সময় টাকা কম দিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর কয়টা দিন অপেক্ষা করো, ১০ হাজার টাকা দিয়েও পাবে না।’ আল আমিনের কথোপকথন গোপনে ভিডিও ধারণ করেন শহিদ নুর। পরে একপর্যায়ে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিও প্রকাশের পর আল আমিন তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শহিদ নুর। আল আমিনকে টাকা দেওয়া শহিদ নুর বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য আল আমিন আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমি নগদ এক হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। বাকি টাকা পরে দেব বলেছিলাম। সে আমার প্রতিবেশী আবুল কালামের স্ত্রী আছমা বেগমের কাছ থেকেও নাকি পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা নিয়ে যদি কাজ না করে, তাই প্রমাণ রাখার জন্য ভিডিও করে রেখেছিলাম। পরে কীভাবে ভিডিওটি ফেসবুকে চলে যায়, তা জানি না। এরপর থেকে আল আমিন আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমার পা ভেঙে ফেলবে বলেও হুমকি দিয়েছে। এরপর আমি আমাদের এলাকার বিএনপি নেতা ও শরিফগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নানকে বিষয়টি জানিয়েছি।’ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এবং অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে ধনপুর ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শরিফগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে আল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ১১ অক্টোবর তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেন। ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু আল আমিন কার্ড দেওয়ার নামে এবং দলের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং দলের সুনাম নষ্ট করতেই তিনি এমনটা করছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছি।’ অভিযুক্ত তথ্য সংগ্রহকারী আল আমিনের সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকিনা আক্তার বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আল আমিনকে তথ্য সংগ্রহকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আরটিভি/টিআর
‘টাকা নিয়ে’ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
৭ দিন বন্ধ থাকবে বুড়িমারী স্থলবন্দর
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লালমনিরহাটের ত্রিদেশীয় বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা সাতদিন সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
৭ দিন বন্ধ থাকবে বুড়িমারী স্থলবন্দর
পচা ডিমের জন্য বেকারিতে ছিল ‘বিশেষ ব্যবস্থা’, জরিমানা লাখ টাকা
পচা ডিম দিয়ে খাদ্য প্রস্তুতের অভিযোগে একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 
পচা ডিমের জন্য বেকারিতে ছিল ‘বিশেষ ব্যবস্থা’, জরিমানা লাখ টাকা
আরও পড়ুন
নারিকেল পাড়তে গাছে উঠে ছিলেন মাহিন, অতঃপর...
হঠাৎ অসুস্থ ওসি, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে হাতেনাতে ধরা পুলিশ কর্মকর্তা, অতঃপর...
জাহাজের ‘কাছে গিয়েও’ ফিরে এলো বনদস্যুরা, ঘটনা কী