গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও তিনটি গরু উদ্ধার এবং এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪জুন) সকাল ৮টার দিকে সফিপুর-বড়ইবাড়ি আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে তিনটি গরুবোঝাই একটি ট্রাক সিনাবহ বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় তারা ট্রাকটি থামানোর চেষ্টা করলে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা ট্রাকে থাকা কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা দিলে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে তিনটি গরুর পাশাপাশি একটি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল এবং কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর উত্তেজিত জনতা আটক ব্যক্তিদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তানজিরুল (২২), আল আমিন (৩২), গোলাম মোস্তফা (৫০) এবং তার স্ত্রী নাসরীন বেগম (৪০)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড় কাঞ্চনপুর এলাকায় গোলাম মোস্তফার বাড়ির পেছনের একটি জঙ্গল থেকে আরও তিনটি গরু উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে নাসরীন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই গরু কিনে জবাই করে মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি মামলা দায়ের করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, গরু চুরির ঘটনায় নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছয়টি গরু ও একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এসকে



