ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কেটে ফেলা হলো ‘উঠে দাঁড়ানো’ সেই গাছ

আখাউড়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ছবি: আরটিভি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া আলোচিত গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে উপজেলা প্রশাসন। গাছটিকে ঘিরে কুসংস্কার, অলৌকিকতার দাবি এবং মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির অভিযোগের পর প্রশাসন এ পদক্ষেপ নেয়।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করা হয়। গাছটির মালিক একই গ্রামের প্রবাসী মো. রুহুল আমিন মুন্সি।

আরও পড়ুন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে বচিয়ারা গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে থাকা গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়ে। পরে গাছটির ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। প্রায় ১০ দিন আগে আরেকটি ঝড়ের পর ডালপালাবিহীন গাছটির অবশিষ্ট কাণ্ড আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গাছটিকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ কিংবা ‘জ্বিনের কাজ’ বলে প্রচার শুরু হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করতে থাকেন। কেউ কেউ মানত করেন, আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালান। এমনকি গাছের শিকড় ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যান। একপর্যায়ে গাছের নিচে লাল কাপড় বাঁধা হয় এবং স্থানটিকে মাজারসদৃশ রূপ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল, কাঠুরিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়ার সময় শিকড়ের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি উঠে আসে। পরে ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলায় গাছের ভরকেন্দ্র পরিবর্তিত হয়। ফলে শিকড় ও মাটির ভারসাম্যের কারণে কাণ্ডটি আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, গাছটি ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়েছিল। পরে ডালপালা কেটে দেওয়ার কারণে ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে এবং এটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। এতে অলৌকিক কোনো বিষয় নেই।

আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. নান্নু মিয়া বলেন, গাছটি প্রায় ৮০ শতাংশ কাটা ছিল। মাথার অংশ কেটে ফেলায় উপরের অংশ হালকা হয়ে যায় এবং গোড়ার অংশ ভারী থাকায় এটি আবার দাঁড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গাছটিকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম হচ্ছিল এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। গাছের মালিকের অনুমতি নিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি কেটে ফেলা হয়েছে। মালিক জানিয়েছেন, গাছ বিক্রির অর্থ কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। প্রতি বছর এ দরবারে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক উরস শরীফ।
নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা
নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। প্রতি বছর এ দরবারে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক উরস শরীফ।
নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা
দুই শতাধিক কৃষকের জমি দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে মানববন্ধন
ভোলার চরফ্যাশনে দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ২৩৪ একর জমি দখলের চেষ্টা এবং স্লুইসগেট খুলে রোপণ করা আমন ধান পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দুই শতাধিক কৃষকের জমি দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে মানববন্ধন
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রেখে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরে আরও ২০ হাজার টাকা ‘কমিশন’ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন উমেদার রূপণ দাশ। ঘুষ নেওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ দাবি করেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তারা দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি। অভিযান পরিচালনাকারী ফাঁদ টিমের নেতৃত্বে থাকা দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি বলেন, পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য তারা দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এক ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রথমে হটলাইন ১০৬ এবং পরে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ লিখিত অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলে হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের পিপি রেজাউল করিম রনি বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম জানিয়েছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই অর্থ নেওয়ার সময়ই দুদকের দল কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এদিকে উমেদার রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে রূপণ দাশ আরও বলেন, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় ওই টাকা তার বাসায় গিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার দাবি, দলিলটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে বাড়তি দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পরে মামলা করা হয়। বুধবার গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান জবানবন্দি দেননি। অপর দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আরটিভি/এসআর
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে স্থায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্র থেকে তাকে পাঠানো এক নোটিশে এ বার্তা দেওয়া হয়। এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা সাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আরও বলা হয়, অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত এনসিপি নেতার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের ওই কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। আরটিভি/এসআর
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
আরও পড়ুন
৫ ‘গাঁজাখোর’ আটকের পর বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদেশি মদ, বিয়ার, এস্কাফ ও গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার
মাইকিং করেও দুর্ভোগ লাঘব হলো না ৮০ হাজার মানুষের
ট্রেনে ছিনতাই চক্রের ২ নারী সদস্য আটক