মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যবরুণ্ডি এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি লেবু বাগানের প্রায় ২০০টি চারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৫ জুন) মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্তরা হলেন- আমিনুল ইসলাম ওরফে তনু (৪০), শরিফ হাজারী (৩৩), সেলিনা বেগম (৩৮), আবুল হোসেন (৪৩) ও ইন্নত আলী (৬৫)-সহ আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মধ্যবরুণ্ডি গ্রামের বাসিন্দা জলি আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম তাদের মালিকানাধীন ২৭ ডিসিমেল জমিতে প্রায় ১৫ দিন আগে লেবু ও পাটের চারা রোপণ করেন। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে জমিতে প্রবেশ করে অধিকাংশ লেবু গাছের চারা কেটে ফেলে এবং পাটের চারাও নষ্ট করে দেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে তাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের চেষ্টা, ফসলি জমির ক্ষতিসাধন এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে।
এর আগেও প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম ওরফে তনুর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় জমির মালিক রাসেল হোসেন বলেন, আমরা জানি জমিটির মালিক জাহিদুল ও তার মা। শুনেছি তাদের লাগানো লেবুর গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জলি আক্তারের দেবর মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু জানান, দলিল অনুযায়ী জমিটির বৈধ মালিক জলি আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম। জমি দখলের উদ্দেশ্যে লেবুর চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং পাটের চারাগুলোও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে।
জমির যৌথ মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, চাষাবাদ করেই আমার পড়াশোনার খরচ মেটাই। কিন্তু তনুরা আমার অনেক বড় ক্ষতি করে ফেললো। জমিটি আমার খালাদের কাছ থেকে কেনা এবং আমার নানীও কিছু জমি আমাকে লিখে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৭ ডিসিমেল জমির মালিক আমি ও আমার মা। পরিকল্পিতভাবে আমাদের লেবুর চারা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং পাটের চারাও নষ্ট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জলি আক্তার বলেন, আমার ও আমার ছেলের মালিকানাধীন জমিতে আমরা লেবুর চারা রোপণ করেছিলাম। সবগুলো চারা কেটে ফেলা হয়েছে। আমাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। এর আগে লেবু গাছ রোপনের আগের দিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সামনেই তনু আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলো। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম তনু বলেন, আমি কারো লেবু গাছ কাটিনি এগুলো মিথ্যা। উলটো তারা আমার মিষ্টি কুমড়া খেত উজাড় করে হাল চাষ করেছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম




