প্রায় এক যুগ ধরে জানালা, দরজা, বিদ্যুৎহীন অন্ধকার ঘরে পচা দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় শিকলবন্দি হয়ে আছে নুরী খাতুন (৫৫)। অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে তার জীবন। এ যেন দেখার কেউ নেই।
অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার তেথুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে। নুরী খাতুন ওই গ্রামের মৃত লবা প্রামানিকের মেয়ে।
প্রায় এক যুগ ধরে নিজ ঘরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
তার পরিবারের লোকজন বলেন, প্রায় ৪০ বছর ডাক্তার, কবিরাজ এমনকি মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা করিয়েছি। কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় প্রায় এক যুগ শিকলবন্দি করে ঘরে আটকিয়ে রেখেছি।
রোববার (৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নুরী খাতুনকে রাখা হয়েছে বাড়ির পেছনের নির্জন একটি ঘরে। সেই ঘরের কোনো জানালা, দরজা, বিদ্যুৎ বা আলোর ব্যবস্থা নেই- দিনের বেলাতেও থাকে অন্ধকার। অবহেলা অনাহারে দিন কাটে নুরীর। প্রকৃতির ডাক এলে ঘরের মেঝেতেই কাজ সারেন। দুরগন্ধে ঘরে ঢোকা দায়- এ যেন মানবিকতার চরম বিপর্যয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অসহায়ত্বের বা অন্য কোনো অজুহাতে আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও, এলাকাবাসীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
স্থানীয়দের দাবি, নূরী খাতুনের প্রতি তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত অমানবিক ও নির্মম আচরণ করে আসছে। একজন অসুস্থ ও মানসিক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা এবং চিকিৎসার পরিবর্তে শিকলবন্দি করে রাখার ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, বিষয়টা অমানবিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




