বাড়ি ফিরতে চায় পুশইনের শিকার ছোট্ট রোজিনা

স্টাফ রিপোর্টার (ঠাকুরগাঁও), আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০৫:৩২ পিএম


বাড়ি ফিরতে চায় পুশইনের শিকার ছোট্ট রোজিনা
ছবি: আরটিভি

ভারতের কলকাতার একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে রোজিনা আক্তার। সেখানে বাবা-মা ও পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তাদের জীবন। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাবা-মা, ভাইবোনসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বদলে যায় সবকিছু। যে চোখে একসময় রোজিনা স্বপ্ন দেখত লেখাপড়া করে অনেক বড় হবে, আজ সেই চোখেই ভয়, অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতার ছাপ।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে তা প্রতিহত করে বিজিবি। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিন দিন ধরে তারা কাঁটাতারের ওপারে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এখনো বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান মেলেনি।

ফলে তিন দিন ধরে সীমান্তসংলগ্ন জমিতেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কখনো প্রখর রোদে, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে খাবার ও গোসলের সুযোগ ছাড়াই বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। মশালগাঁও সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর প্রতিবন্ধী ছোট ভাই এবং নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাকে নিয়ে রোজিনার কান্না যেন থামছেই না। দ্রুত বাড়ি ফিরতে চায় সে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এসের কাছে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন।

news_pic_(8)
ছবি: আরটিভি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হেফাজতে নেয় এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে, যেখানে আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

তাদের দাবি, ভারতীয় পুলিশের একটি গাড়িতে করে ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে নেওয়ার পর একদিন সেখানে রাখা হয়। পরে ৬ জুন রাতে সীমান্তের দিকে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission