বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের হীরাধর গ্রামের অসহায় দুই এতিম শিশু মাইনুল ও মেহেদির জীবনকাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি “পরকীয়ার টানে চলে গেছেন মা, বাবার কবরের পাশে বসে থাকে অবুঝ-অসহায় দুই শিশু” শিরোনামে আরটিভিতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে সংবাদটি বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
রোববার (৭ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারটির খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, হীরাধর গ্রামের বিধবা রিজিয়া বেগম ও তার দুই নাতি মাইনুল এবং মেহেদির মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে নগদ ১০ হাজার টাকা, দুটি খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট এবং ইউনিসেফের সরবরাহকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর একটি প্যাকেট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রিজিয়া বেগমের জন্য বিধবা ভাতা কার্ডের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সহায়তা প্রদান করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত রিজিয়া বেগম বলেন, আমার নাতিদের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সবার জন্য আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি। যারা আমাদের কষ্টের কথা মানুষের সামনে এনেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
এদিকে, একজন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনও পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা প্রদান করেছে। তবে এলাকাবাসীর মতে, এতিম দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ও পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে পাওয়া সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও এটি সাময়িক।
স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো পরিবারটির দুর্দশা অনেকের অজানাই থেকে যেত। তারা আরটিভিসহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের হীরাধর গ্রামের বাসিন্দা আসমা বেগম স্বামী-সন্তানদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর তার প্রতিবন্ধী স্বামী নাসির হাওলাদার জীবিকার তাগিদে বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। এরপর থেকে তাদের দুই শিশু সন্তান মাইনুল ও মেহেদির আশ্রয় হয়ে ওঠেন বৃদ্ধা দাদি রিজিয়া বেগম।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বিধবা নারী মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চেয়ে কোনোমতে নিজের ও দুই নাতির খাবারের ব্যবস্থা করছিলেন। অসহায় শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল পুরো এলাকা। অবশেষে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতার হাত তাদের দিকে প্রসারিত হতে শুরু করেছে।
আরটিভি/টিআর




