কক্সবাজারে মুখপোড়া হনুমান ও ১২ কচ্ছপ উদ্ধার

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ০৫:৩৩ এএম


কক্সবাজারে মুখপোড়া হনুমান ও ১২ কচ্ছপ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। এ সময় পাচারকারীচক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচারের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের আওতাধীন চুনতি বনরেঞ্জের একটি বিশেষ দল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভাঙ্গারমুখ বাজার এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ।

আটক ব্যক্তি হলেন- মো. হাদিস রহমান (৪০)। তিনি ঢাকা জেলার মিরপুর-১১ নম্বরের রোড নং-৩ কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।

বনবিভাগ গণমাধ্যমকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিরল ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনবিভাগ জানতে পারে, চকরিয়ার একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকটি বন্যপ্রাণী মজুদ করে রাখা হয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে একটি মুখপোড়া হনুমানসহ ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে হাদিস রহমানকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, উদ্ধার করা প্রাণীগুলো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকাভুক্ত। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক, ক্রয়-বিক্রয় ও পাচার গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন ও প্রাণীর গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বন থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে ঢাকা হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলোকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission