সেই শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন পুলিশ সুপার

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০৫:০৪ পিএম


সেই শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন পুলিশ সুপার
ছবি: সংগৃহীত

স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়ে গুমের নাটক সাজিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে ধরে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তখনও জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে, পুলিশ বলছে, জিসানের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং, একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে আলোচিত এই শিবির নেতাকে ঘিরে। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি জানান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছেন। ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তার ভ্রূণ নষ্ট করেন জিসান। পরে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে এই শিবির নেতা আত্মগোপনে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, নিখোঁজ ডায়েরির পর তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। অনুসন্ধানকালে প্রথমে জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সজীবের মাধ্যমেই পরে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া শুরু করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

এরইমধ্যে দাউদকান্দি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। মামলায় সূত্রে জানা যায়, শিবির নেতা জিসান ৫-৬ মাস আগে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি তার দাউদকান্দি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। গত ২০ মে সবশেষ নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এর ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়েন ওই নারী। এরপর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দাউদকান্দির সেকান্দর আলীর ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে নারীকে খাওয়ান। এর ২-৩ দিন পর বাচ্চা নষ্ট হওয়ার ফলে নারীর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ আরম্ভ হলে ভুক্তভোগী নারী জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে বিষয়টি জানান। সজীবের মাধ্যমে পুনরায় জিসান ওষুধ পাঠান। এরপর ওই নারী স্বাভাবিক হলে ভিকটিম জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গত শুক্রবার (১২ জুন) দুজনের বিয়ের কথা ছিল। এই বিয়ে এড়াতেই গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আটটার পর জিসান নিজেই আত্মগোপন করে চাচাতো ভাই রাসেলের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় জিডি করান।

পরবর্তীতে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে লাকসাম থেকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা জিসান প্রধানকে খুঁজে বের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে, তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে তুলতে দেরি হচ্ছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে তোলা হবে।

তবে, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান পুরোপুরি সুস্থ আছেন। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, মূলত ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার রহস্য এবং বিস্তারিত আরও জানানো হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission