পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) জুরাছড়ি উপজেলার বনযোগীছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ বীর, রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুরাছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে জুরাছড়ি জোনের উপ-অধিনায়কসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, স্থানীয় হেডম্যান করুণাময় চাকমা, কারবারি তুষার কারবারি, বনযোগীছড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মাঝে মোট ১ হাজার ২৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি গাছের সঠিক পরিচর্যা ও ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে রাসায়নিক ও জৈব সার এবং কীটনাশক দেওয়া হয়। বিতরণকৃত এই চারাগুলো স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা, পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, বরং পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিক্ষয় রোধ, জলাধার সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পরিকল্পিত এই বৃক্ষরোপণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, বরং জনগণের কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উপস্থিত সবাইকে বিতরণকৃত চারাগুলো শুধু রোপণই নয়, বরং যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণ, জনকল্যাণ এবং টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরটিভি/এমএম




