প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে স্থাপিত নতুন দানবাক্সের অর্থ গণনা করেছে জেলা প্রশাসন। মাত্র চার দিনে দানবাক্সগুলোতে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং ১০ সৌদি রিয়াল।
সোমবার (২২ জুন) সকালে বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও মাজারের প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমের নির্দেশে মাজার প্রাঙ্গণে স্থাপিত দানবাক্সগুলো খোলা হয়। প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করেন।
গণনা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া সব অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরকারি নিয়ম অনুসারে সংরক্ষণ করা হবে। পরে এগুলো সোনালি ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে খোলা সরকারি হিসাবে জমা রাখা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে মাজারে ভক্তদের দান ঐতিহ্যগতভাবে খাদেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শতবর্ষী দানের ডেক সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভক্ত, খাদেম এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে নতুন দানব্যবস্থা চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ জারি হয়। বদলির আদেশ মাথায় নিয়েই নিজের শেষ কর্মদিবসে দানবাক্সের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেন তিনি। বিষয়টি সিলেটজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ওয়াকফ অডিটর মো. সজল মিয়া বলেন, মাজারে পাওয়া অর্থ, সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে এগুলো সংরক্ষণ ও ব্যাংকে জমার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই জেলা প্রশাসন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আরটিভি/এসকে




