ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে মাইকিং

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা দুই-তিন দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে হাজারো ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি ও চিংড়িঘের।

ভারী বৃষ্টি সোমবার (২২ জুন) বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, সদর ইউনিয়ন, শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।

এদিকে সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা সাঁতরে নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মাছ ও জালসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার অন্তত ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মানুষের বসতি রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সকাল থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। টেকনাফে প্রায় ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও ১১টি টিলায় বসতি গড়ে উঠেছে। বন বিভাগের প্রায় ৩৯ হাজার হেক্টর বনভূমির বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারাও রয়েছেন।

আরও পড়ুন

পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর আলম বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে আমরা আতঙ্কে আছি। সকাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু যাওয়ার মতো আমাদের কোনো বিকল্প জায়গা নেই।

সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, ভারী বৃষ্টিতে পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খাল দখলের কারণেই এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। তবে মাঝিমাল্লারা নিরাপদে তীরে ফিরতে পেরেছেন। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিতে সমুদ্রঘেঁষা কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ বলেন, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, ভারী বর্ষণে এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করছি। কারণ টানা বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের ভয় আছে। এছাড়া পানিবন্দি লোকজনের খোঁজখবরও রাখছেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
নাতিকে টাকা ধার না দিতে দাদার মাইকিং
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ১২ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে লাখো মানুষ
পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের মাইকিং