ভরা মৌসুমেও দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে সবধরনের চালের দাম। মানভেদে চালের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৭ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষরা।
দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি তাদের। চালের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মিলারদের সিন্ডিকেট ও আমদানিকারকদের দুষছেন বিক্রেতারা। আমদানি বন্ধ ও মিলাররা সরকারকে চাল দেওয়ায় দাম বাড়ছে দাবি মিলার ও আমদানিকারকদের।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) হিলির বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানিকৃত শম্পা কাটারি জাতের চাল কেজিতে ১৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকা। স্বর্ণা জাতের চাল কেজিতে ৭টাকা বেড়ে ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশীয় মিনিকেট জাতের চাল প্রকারভেদে ৬৪ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা আগে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। আর শম্পা কাটারি জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৮ টাকা কেজি দরে যা আগে ৬৩ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন।
চাল ক্রেতা ইমরুল কায়েস জানান, সরবরাহ কমের অজুহাতে শষ্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। দেশে চলছে বোরোর ভরা মৌসুম এখনো অনেক এলাকায় কৃষকরা ক্ষেত থেকে ধান কেটে ঘরে তুলছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে বাজারে এসেছে নতুন চাল। কিন্তু চালের দাম কমার পরিবর্তে উল্টো বাড়ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা সুভ্রত কুন্ডু জানান, হাসকিং মিল বন্ধ থাকায় অটোমিলাররা সিন্ডিকেট করে এখন তারা ইচ্ছামত চালের দাম বাড়াচ্ছেন। তারা কম দামে ধান কিনে মজুত করে রেখে এখন ধানের দাম বাড়তির অজুহাতে চালের দাম বাড়াচ্ছেন। এদিকে আমদানি বন্ধ থাকায়পুর্বে আমদানিকৃত চাল অনেক আমদানিকারক গুদামে মজুদ রেখে দাম বাড়াচ্ছেন ফলে চালের দাম বাড়ছে দাবি বিক্রেতাদের।
চাল আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাল আমদানি বন্ধের ফলে সরবরাহ কমায় দাম বাড়ছে। আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসবে। বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। যদি সরকার চাল আমদানিতে অনুমতি দেয় তাহলে বন্দরের ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি করবেন।
মিলার মোস্তাকিম হোসেন জানান, সরকারকে চাল দিতে অটো মিলাররা মোটা চাল উৎপাদন করায় চিকন চালের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দাম বাড়ছে। চিকন চালের উৎপাদন শুরু হলে দাম কমে আসবে দাবি মিলারদের।
আরটিভি/এমএ




