নড়াইলের কালিয়ায় ঘুড়ি ওড়ানোর সময় কেটে যাওয়া ঘুড়ির পেছনে দৌড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক স্কুলছাত্রের মরদেহ বিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার নোয়াগ্রাম সংলগ্ন একটি বিলে এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নিহত স্কুলছাত্রের নাম মো. হুসাইন। সে নোয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়ার মো. সাবু শেখের ছেলে এবং স্থানীয় শাহবাগ ইউনাইটেড একাডেমির সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে হুসাইন তার দুই বন্ধুর সাথে বাড়ির পাশের একটি বিলে ঘুড়ি ওড়াতে যায়। ওড়ানোর একপর্যায়ে হঠাৎ ঘুড়ির সুতো কেটে গেলে সেটি কুড়ানোর জন্য হুসাইন একা একাই বিলের ভেতরের দিকে দৌঁড়াতে শুরু করে। দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সে ফিরে না আসায় সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু তাকে খুঁজতে বের হয়।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলের একটি নির্জন স্থানে তারা একটি মানুষের মাথা কাদামাটির নিচে দেবে (ঢুকে) থাকতে দেখে। পরে তারা সাহস করে পা ধরে টেনে তোলার পর নিশ্চিত হয় যে, এটি তাদেরই খেলার সঙ্গী হুসাইন।
উদ্ধারকারীরা জানান, মৃত শিশুটির শরীরে কোনো ধরনের আঘাত, দাগ বা কাটার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
এদিকে, শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকা এবং মাথা মাটির নিচে দেবে থাকায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা গুঞ্জন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বিলের কোনো চোরাবালি বা নরম কাদায় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে কিংবা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এই অকাল ও রহস্যময় মৃত্যুতে নিহতের পরিবার এবং পুরো নোয়াগ্রাম এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
আরটিভি/এসএস




