পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী ২০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে উদ্বোধন হলেও আজও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। নামে ২০ শয্যা হাসপাতাল হলেও সেখানে একটি শয্যাও নেই। ডাক্তার, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটি এখন প্রায় অচল। অব্যবহারে ভবনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হচ্ছে, হাসপাতাল চত্বরে গবাদিপশু চরছে, সিঁড়িতে পড়ে আছে ছাগলের মলমূত্র।
সোমবার (২৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক খোলা থাকলেও দোতলা ভবনের কোথাও রোগীর উপস্থিতি নেই। হাসপাতালের অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ধুলাবালিতে ঢেকে গেছে কক্ষগুলো। এক্স-রে, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও কোনো ব্যবহার বা অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। একটি কক্ষে একজন নার্স সীমিত পরিসরে কয়েকজনকে বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছেন। তবে হাসপাতালের কোথাও নিয়মিত চিকিৎসা সেবার পরিবেশ দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী হাসপাতালটির উদ্বোধন করলেও এরপর আর এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। চিকিৎসক না থাকায় অধিকাংশ সময় হাসপাতাল বন্ধই থাকে। ফলে অসুস্থ রোগীদের বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা বরিশাল সদরে হাসপাতালে যেতে হয়।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দুটি স্টাফ কোয়ার্টারসহ হাসপাতালের মূল ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হাসপাতালের জন্য চারজন জুনিয়র কনসালটেন্ট, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন, ছয়জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন অফিস সহায়কের পদ অনুমোদিত রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হাসপাতালটি যেন চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, পরিত্যক্ত ‘জঙ্গলবাড়ি’। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি দ্রুত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি অব্যবহারে আরও নষ্ট হয়ে যাবে এবং এলাকার হাজারো মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৌমিত্র সিনহা বলেন, উদ্বোধনের পর জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনজন নার্স ও একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক কোড চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ পেলে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
আরটিভি/এমএ




