ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সীমান্তঘেঁষা একটি বাড়িকে মাদক কারবারের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত করতে চারপাশে বসানো হয়েছিল অন্তত ১২টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে নির্বিঘ্নে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করা হতো।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আখাউড়া থানা পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইদন (২৫) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, ১২টি সিসি ক্যামেরা এবং একাধিক ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রামদাসহ বিভিন্ন দেশিয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা সেনারবাদী গ্রামের বাসিন্দা আবু জাহের মিয়ার ছেলে কালু ও তার ভাই ইদন বাড়ির চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখতেন। এরপর পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলেই চলত মাদকের বেচাকেনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালু ও ইদনের পরিবারের একাধিক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে মাদকসহ কালু ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসেও তৎকালীন আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আখাউড়া থানা পুলিশ ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) যৌথ টাস্কফোর্স একই বাড়িতে অভিযান চালায়। সেবার ১০টি সিসি ক্যামেরা, বিপুল পরিমাণ মাদক, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং অর্ধশতাধিক চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযানে দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবারও নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে মাদক কারবার শুরু করে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কালু ও ইদনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ইদনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এমএম




