ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচ নদীর তাণ্ডবে ভয়াবহ বিপর্যয়ে কুড়িগ্রাম, ইতোমধ্যে ঘরছাড়া ৫০০ পরিবার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
একযোগে ভাঙনের ফলে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা : ছবি সংগৃহীত

বর্ষার শুরুতেই আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার প্রধান পাঁচটি নদ-নদী—ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানী নদীতে একযোগে ভাঙনের ফলে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে ইতোমধ্যে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

​পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। তাই আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।

​স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ:

আরও পড়ুন

​দুধকুমার নদী: এই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া; নাগেশ্বরীর বেপারীর চর, সাপখাওয়া, মাঝিপাড়া, কুটিরচর, মণ্ডলপাড়া, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

​ধরলা নদী: সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সাটকালুয়া ও জগমনের চর, ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ এবং বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদ: সদর উপজেলার গোয়াইলপরী ও পার্বতীপুর; নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলার বাজার ও বালারহাট; উলিপুরের দইখাওয়ার চর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি; চিলমারীর কাচকোল; রৌমারীর সোনাপুর, গেন্দার আলগা, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার সাজাই, পাইকানটারী ও বল্লবপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন চলছে।

তিস্তা নদী: রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি, চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকায় নদীর আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে।

কালজানী নদী: ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা ও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সদরের সারোডোব ও ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গাসহ বেশ কিছু নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

সদর উপজেলার সাটকালুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিদিন নদী কয়েক হাত করে এগিয়ে আসছে। ঘরের টিন খুলে রেখেছি। কখন বাড়িটা নদীতে চলে যায়, সেই ভয়ে পরিবার নিয়ে রাত জেগে থাকি।

উলিপুরের গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক নুর ইসলাম বলেন, জমি নদীতে গেছে, এখন বাড়িও যাবে। আমাদের মতো মানুষের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জরুরি বরাদ্দের প্রয়োজন।

কুড়িগ্রামের চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।

​জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে জেলায় নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ টন চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (যার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ধরণের মশলা রয়েছে) বরাদ্দ করা হয়েছে।

​কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, প্রতিবাদে ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পেশাদারভাবে বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারের অভিযোগে স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূ।
স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, প্রতিবাদে ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী
নবীনবরণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০
কলেজের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নবীনবরণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০
বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুলাভাই
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী (২০) বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 
বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুলাভাই
চুরি ঠেকাতে সড়কে ১২ বাঁশকল, পরিদর্শনে পুলিশ সুপার
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গরু চুরি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ১২টি পয়েন্টে বাঁশকল স্থাপন করে রাতের পাহারা জোরদার করা হয়েছে। বাঁশকল হলো সড়কের ওপর বাঁশের তৈরি অস্থায়ী প্রতিবন্ধক, যা প্রয়োজন অনুযায়ী তুলে দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়। এসব পয়েন্টে পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ও ধামাইনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত বাঁশকল পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।  এ সময় তিনি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলে পাহারা ও যানবাহন তল্লাশি কার্যক্রমের খোঁজ নেন। রায়গঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসব বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে। রাতের বেলায় সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এ পাহারা ব্যবস্থায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।  দায়িত্ব পালনকারীদের রাতের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে থানা পুলিশ। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চেকিংয়ের সময় সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে অযথা ভোগান্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।  এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিরাজগঞ্জ মো. হাফিজুর রহমান, রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান, রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামানসহ জেলা ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গরু চুরি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে এধরণের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।  আরটিভি/এসআর
চুরি ঠেকাতে সড়কে ১২ বাঁশকল, পরিদর্শনে পুলিশ সুপার
মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে আগুন দিলেন যুবক, ঘটনা কী
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের টাকার জন্য মা ও বোনকে মারধরের পর ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুল মিয়া (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কুলিয়ারচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগুনে ঘরের সব আসবাব, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি পুড়ে গেছে। নির্যাতনের শিকার রুবিনা বেগম বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। কখনো দা নিয়ে কোপাতে আসতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিনা বলেন, আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। যদি ফাঁসি না হয়, অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো সে আমাদের মেরে ফেলবে। অভিযুক্ত ফুল মিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে তাকে বকাঝকা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ঘরে তারও অংশ রয়েছে এবং রাগের মাথায় আগুন দিয়েছেন। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এসআর
মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে আগুন দিলেন যুবক, ঘটনা কী
আরও পড়ুন
রংপুরে অ্যানথ্রাক্সের নতুন ক্লাস্টারের শঙ্কা
গঙ্গাচড়ায় পরীক্ষায় ওএমআর বদলের অভিযোগে ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
ভাগ্নেবউয়ের ঘরে ঢুকে নিজেকে ‘থামাতে পারলেন না’ মামাশ্বশুর, অতঃপর...
অন্তরঙ্গ অবস্থায় ছাত্রলীগের ফুলবাবু ধরা, অতঃপর...