কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২ হাজার ৯৬৪ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, রাসায়নিক সার, কৃষি উপকরণ ও বিভিন্ন ফসল এবং ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাঈদ আহমেদ আসলাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ, সার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষক দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উচিত সরকারের দেওয়া প্রণোদনার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা। অনাবাদি জমি চাষের আওতায় এনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের খাদ্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে মোট ২ হাজার ৯৬৪ জন কৃষক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরকারি কৃষি প্রণোদনার আওতায় আসবেন। এর মধ্যে ৮২৫ জন কৃষক জনপ্রতি ৫ কেজি উন্নতমানের রোপা আমন ধানবীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন। ২৬০ জন কৃষক মরিচ চাষের জন্য জনপ্রতি ৫ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার পাবেন। ১ হাজার ৬০ জন কৃষক শাকসবজি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাবেন। এ ছাড়া ২৫ জন কৃষক লেবুর চারা, ৭২৪ জন কৃষক জনপ্রতি ৫টি করে বাঁশের খুঁটি এবং ৭০ জন কৃষক পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য বিশেষ কৃষি প্রণোদনা পাবেন।
এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৯৪ জন কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ৫টি করে নারকেল গাছের চারা এবং ৪৩০ জন কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ৫টি করে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসব চারা কৃষকদের পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, সরকারের এ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিকে লাভজনক করা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং শতাধিক উপকারভোগী কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
উপকারভোগী কৃষকেরা সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, চাষের মৌসুমের শুরুতেই বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ হাতে পাওয়ায় আমাদের উৎপাদন খরচ কমবে। এতে একদিকে যেমন ফলন বাড়বে, অন্যদিকে কৃষিকাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।
আরটিভি/আইএম




