রান্নাঘরের ১০ ফুট নিচ থেকে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্য কী?

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৩১ পিএম


রান্নাঘরের ১০ ফুট নিচ থেকে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্য কী?

মুন্সিগঞ্জে নিখোঁজের ৫০ দিন পর ফার্মের রান্নাঘরের ভিতরে প্রায় ১০ ফুট গর্ত করে পাওয়া গেছে আলু ব্যবসায়ীর মরদেহ। নিহতের স্ত্রীর ভগ্নীপতির সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ও আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে নিহতের স্ত্রী রাণী বেগম।

বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।

তিনি জানান, গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন (৬০)। এ ঘটনায় গত ২৩ মে তার ভাই আব্দুল আউয়াল শেখ বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান চেয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। সেই সূত্র ধরে ৩১ মে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত ও নিহতের স্ত্রীর ভগ্নীপতি মোশাররফ হোসেন মানিককে আটক করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘ এক মাসের তদন্তে উঠে আসে হত্যার লোমহর্ষক বিভিন্ন তথ্য। পরে তথ্য প্রযুক্তি সহযোগিতায় সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাইফুল ইসলাম নামের আরও একজনকে। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিরাজদিখানের চাইনপাড়াসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মো. রিপন মিয়া (৩৪) ও বিন আমিন শেখ (৩৫) নামের আরও দুজনকে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় জড়িতরা।

এরপরে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নে চাইনপাড়া গ্রামে নিহতের বসতবাড়ির পাশের একটি গবাদিপশুর রান্নাঘরে প্রায় ১০ ফুট গর্ত খুড়ে নিহত ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আওলাদ হোসেন একই গ্রামের মৃত ফরিদ শেখের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, ব্যক্তিগত জীবনে নিহত আওলাদ হোসেন দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী নাজমা বেগম মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য আওলাদ হেসেনকে চাপ সৃষ্টি করে। আওলাদ হোসেন সম্পত্তি স্ত্রীকে লিখে না দেওয়ায় সাইফুল নামে একজনের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ মাটির নিচে পুতে রাখেন দ্বিতীয় স্ত্রী। এর প্রায় ৫০ দিন পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নিহত ব্যবসায়ী দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী বেগমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত বাকি আসামিদের এ দিন বিকেলের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission