প্রতিপক্ষের হামলায় ১৫ পরিবারের বসতভিটা ধ্বংসস্তূপ

নড়াইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬ , ০১:১৬ পিএম


প্রতিপক্ষের হামলায় ১৫ পরিবারের বসতভিটা ধ্বংসস্তূপ
ছবি: আরটিভি

নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের গ্রামে বর্বরোচিত তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ভদ্রবিলা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবারের ৩০টিরও বেশি ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘরের মূল্যবান সামগ্রী।

বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে হামলা ও লুটপাটের ভয়ে থমথমে ভদ্রবিলা গ্রাম ছেড়ে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আতঙ্কিত বাসিন্দাদের মধ্যে ঘর থেকে ধান-চালসহ শেষ সম্বলটুকু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলা নিয়ে ভদ্রবিলা ও পলাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ৩ জুলাই পলাইডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা কাজী প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হন। এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই ভদ্রবিলা গ্রামে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।

সরেজমিনে ভদ্রবিলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধুই ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। দোকানপাট, বসতঘর থেকে শুরু করে গোয়ালঘর—কোনো কিছুই বাদ যায়নি হামলাকারীদের হাত থেকে। ঘরের ভেতরের খাট-পালং, শোকেস, আলনা ও আলমারি ভেঙে তছনছ করা হয়েছে।

সন্ত্রাসী তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে এভাবেই কেঁদে নিজের আকুতি জানাচ্ছিলেন ভদ্রবিলা গ্রামের ইন্তাজ মোল্যার স্ত্রী জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, “ঘাম ঝরানো শ্রমে তিল তিল করে ২০ বছর ধরে এই সাজানো সংসার গড়ে তুলেছিলাম। চোখের সামনে সব মাটিতে মিশিয়ে দিল। সব লুট করে নিয়ে গেছে, এখন আমাদের আর কিছুই বাকি নেই।”

একই গ্রামের লাল্টু বিশ্বাসের স্ত্রী রচনা বেগমের বাড়ির অবস্থাও একই। সবকিছু হারিয়ে তিনি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। গ্রামের ভুক্তভোগী নারীরা এখন খোলা আকাশের নিচে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন।

এদিকে গ্রামে নতুন করে কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ।

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য জোরদার অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় সাধারণ মানুষ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission