রাঙামাটিতে বুধবার (৮ জুলাই) চতুর্থদিনের মতো টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গেছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন থেকে এই পর্যন্ত জেলায় ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮ শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী। এছাড়া প্রবল বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল।
টানা বর্ষণের ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী সড়ক ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের উগলছড়ি, বেপারী পাড়া, নিউলাইল্ল্যা ঘোনা এবং পৌরসভার বটতলী, মাদরাসা পাড়া, হাজী পাড়ার কিছু অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নিউটন দাশ জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জেলাপ্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে প্রচারিভযান চলছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি বিবেচনা করে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মঙ্গলবার যারা সাজেকে ঘুরতে গেছেন তারা আটকা পড়েছেন। এখন প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা রয়েছেন।
খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় এই পর্যটকরা আটকা পড়েছেন।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, পানি কমলে তাদেরকে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে।
অপরদিকে টানা বর্ষণের কারণে কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবানের সড়কের চন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া সার্বিক বিবেচনায় রাঙামাটিতে আজকের এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আট শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরো যারা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে তাদের রাতের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যক্তি ও স্থানীয়রা সহযোগিতা করছেন বলেও তিনি জানান।
রাতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল রাঙামাটি গিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এমএইচজে



