কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৫) তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন।
এর আগে, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
মামলার আসামিরা হলেন- দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুজ মিয়া (২৪), ও মো. ইসমাইল (২৯)। তারা দুজন সম্পর্কে একে অপরের খালাতো ভাই।
জানা যায়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দু’জন পলাতক রয়েছেন। এরমাঝেই বিষয়টি গোপন রাখতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীর দাদির সঙ্গে ঘটনার মীমাংসা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভুক্তভোগীর বাবা-মা ঢাকা থেকে এলাকায় ফেরেন এবং বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বারেরা দাখিল মহিলা মাদরাসা সুপার মওলানা আমির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী এবং তার ছোট বোন আমার মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। যেদিন ঘটনা ঘটে সেদিন (শনিবার) মাদরাসা বন্ধ ছিল।
তিনি আরও বলেন, রোববার আমি ভুক্তভোগীর দাদিকে ডেকে এনে তার নাতনিকে তার কাছে তুলে দিয়ে বলি, ওই ঘটনা আইনের আশ্রয় কিংবা সামাজিক ভাবে শেষ করে নিতে।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, রোববার বিষয়টি আমার মেয়ে ফোনে জানায়। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। আমার স্ত্রীও তখন ঢাকাতে ছিল। সংবাদ পেয়ে আমরা বাড়িতে ফিরি।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা নারী পাচারকারী। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সবুজ আমাকে প্রেমের প্রস্তাবে বিরক্ত করে আসছিল। আমি রাজি না হওয়ায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে শনিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় ডেকে নেয়। এরপর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হুমকি দেয়।
এরপর সবুজ ও ইসমাইল সেখান থেকে অটোযোগে আমাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সবুজ এবং ইসমাইল আমাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনা কাউকে জানালে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং আমার বাবাকে হত্যা করার হুমকি দেয়। তখন ওই বাড়ির এক মহিলা ও একটি মেয়ে এলে তাদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
ওই কিশোরীর মতে, অভিযুক্তরা একটু আড়ালে গিয়ে কার সঙ্গে যেন ফোনে বলছিল– টাকার বিনিময়ে আমাকে বিক্রি করে দেবে। তারা যেন দ্রুত টাকা নিয়ে চলে আসে। এসব শুনে বুঝলাম সবুজ নারী পাচারকারী। পরে আমি আমার হিজাব পরিবর্তন করে, সবুজের স্ত্রীর হিজাব পরে কৌশলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাই এবং বাড়িতে ফিরে দাদিকে সব খুলে বলি।
এদিকে ভুক্তভোগীর দাদীর অভিযোগ, বারেরা এবং বড়আলমপুর গ্রামের কয়েকজন লোক বিষয়টি ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গোপন রেখে শেষ করার প্রস্তাব দেন।
দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করাই। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
আরটিভি/এসএস



