ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদরাসা ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, পলাতক দুই খালাতো ভাই

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৫) তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন।

এর আগে, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

মামলার আসামিরা হলেন- দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুজ মিয়া (২৪), ও মো. ইসমাইল (২৯)। তারা দুজন সম্পর্কে একে অপরের খালাতো ভাই।

জানা যায়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দু’জন পলাতক রয়েছেন। এরমাঝেই বিষয়টি গোপন রাখতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীর দাদির সঙ্গে ঘটনার মীমাংসা উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভুক্তভোগীর বাবা-মা ঢাকা থেকে এলাকায় ফেরেন এবং বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বারেরা দাখিল মহিলা মাদরাসা সুপার মওলানা আমির হোসেন জানান, ভুক্তভোগী এবং তার ছোট বোন আমার মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। যেদিন ঘটনা ঘটে সেদিন (শনিবার) মাদরাসা বন্ধ ছিল।

তিনি আরও বলেন, রোববার আমি ভুক্তভোগীর দাদিকে ডেকে এনে তার নাতনিকে তার কাছে তুলে দিয়ে বলি, ওই ঘটনা আইনের আশ্রয় কিংবা সামাজিক ভাবে শেষ করে নিতে।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, রোববার বিষয়টি আমার মেয়ে ফোনে জানায়। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। আমার স্ত্রীও তখন ঢাকাতে ছিল। সংবাদ পেয়ে আমরা বাড়িতে ফিরি।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা নারী পাচারকারী। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সবুজ আমাকে প্রেমের প্রস্তাবে বিরক্ত করে আসছিল। আমি রাজি না হওয়ায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে শনিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় ডেকে নেয়। এরপর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হুমকি দেয়।

এরপর সবুজ ও ইসমাইল সেখান থেকে অটোযোগে আমাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সবুজ এবং ইসমাইল আমাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

তিনি বলেন, এ ঘটনা কাউকে জানালে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং আমার বাবাকে হত্যা করার হুমকি দেয়। তখন ওই বাড়ির এক মহিলা ও একটি মেয়ে এলে তাদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

ওই কিশোরীর মতে, অভিযুক্তরা একটু আড়ালে গিয়ে কার সঙ্গে যেন ফোনে বলছিল– টাকার বিনিময়ে আমাকে বিক্রি করে দেবে। তারা যেন দ্রুত টাকা নিয়ে চলে আসে। এসব শুনে বুঝলাম সবুজ নারী পাচারকারী। পরে আমি আমার হিজাব পরিবর্তন করে, সবুজের স্ত্রীর হিজাব পরে কৌশলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাই এবং বাড়িতে ফিরে দাদিকে সব খুলে বলি।

এদিকে ভুক্তভোগীর দাদীর অভিযোগ, বারেরা এবং বড়আলমপুর গ্রামের কয়েকজন লোক বিষয়টি ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গোপন রেখে শেষ করার প্রস্তাব দেন।

আরও পড়ুন

দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম‍্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করাই। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন
কুমিল্লায় বাস খাদে পড়ে হেলপার নিহত, আহত ৫
সেই সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর