মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে দুই বিয়ের তথ্য গোপন করে তৃতীয় বিয়ে করার জেরে আছমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছেন তার তৃতীয় স্বামী।
ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে আসামি মো. মুহাসিন মাতুব্বরকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পিবিআই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বলিয়াগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বলিয়াগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী আছমা আক্তার ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন মুহাসিন মাতুব্বর। প্রায় চার মাস আগে তাদের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগে আছমার পূর্বের দুটি বিয়ের বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন ছিল, যা নিয়ে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ চলত।
পিবিআই আরও জানায়, ঘটনার আগের দিন রাত থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। পরদিন ৭ জুলাই সকালে নাস্তা তৈরি না করা ও মাথা ব্যথা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মুহাসিন স্ত্রীকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলে আছমা ঘরের কাঠের পাটাতনে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে হত্যা করে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন মুহাসিন। তবে ব্যর্থ হয়ে মরদেহ খাটের ওপর রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার একটি চৌকস দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরে ৮ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ ও পূর্বের বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলছে।
আরটিভি/এমএইচজে




