টানা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের পর বান্দরবানে বন্যার পানি ধীরগতিতে নামছে। জেলার নিম্নাঞ্চল ও শহরের বেশিরভাগ এলাকায় এখনো পানি জমে থাকায় জনদুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার সদরসহ সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে চার হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
পাহাড়ধসের কারণে জেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। একই কারণে রুমা, রোয়াংছড়ি এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, পর্যটক এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালক-শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী, সড়ক বিভাগ, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার ও সড়ক পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরটিভি/টিআর




