সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা, যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করল প্রশাসন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৫:০৬ পিএম


সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা, যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের সুরমাসহ অন্যান্য নদ নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরে কোন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত এ পরিস্থিতির তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১,৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ শুক্রবার সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিতে সুরমা নদী ও হাওর এলাকার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্ট ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে তবে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী আরও এক দিন সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতের মেঘালয় প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিন্মাঞ্চলে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আজ শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় প্রদেশের মাউসিনরাম এলাকায় ১৭৭মিলিমিটার ,মাওকিরওয়াত এলাকায় ১৩৫মিলিমিটার , আর কে এম সোহরা এলাকায় ১২০মিলিমিটার ও  চেরাপুঞ্জি এলায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি করা রেকর্ড হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বড়পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে দিনে-রাতে বৃষ্টি হচ্ছে, সুরমা নদীর পানিও বাড়ছে। নদীর পানি বাড়লে ২০২২ সালের বন্যা কথা মনে পড়ে। কোন সময় জানি বন্যা হয়ে যায় ও বাড়ি-ঘরে পানি উঠে যায়।’

আরও পড়ুন

সুনামগঞ্জ শহরতলীর ধারারগাঁও এলাকার বাসিন্দা দলিল লেখক তাজুল ইসলাম বলেন, নদী ও আকাশের অবস্থা দেখলে ভয় করে। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে, সুরমা নদীর পানিও বাড়ছে। নদীর ঘোলা পানি দেখে বুঝা যায় পাহাড়ি ঢলের পানি আসতেছে । এভাবে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হলে নদীর পাড়ের রাস্তা ডুবে যেতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও এক দিন অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সুরমা ও অন্যান্য নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে কুশিয়ারা ছাড়া অন্য সব নদীর পানি বিপৎসীমার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত হলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে সল্প মেয়াদী বন্যার আশংকা রয়েছে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলে,বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১,৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান,  স্বেচ্ছাসেবক এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা-উপজেলায় কন্ট্রেল রুম চালু করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য জিআর চাল ও শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনসচেতন বৃদ্ধি করতে প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৮৪৭৯৭৮৯৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission