রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজারের বেশি মানুষ

ইয়াছিন রানা সোহেল, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৪০ পিএম


রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজারের বেশি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় টানা ভারী বর্ষণের পরিমাণ কিছুটা কমে আসলেও জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় প্লাবিত হওয়া গ্রামগুলোর পানি কমেনি, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বড় স্বস্তির খবর হচ্ছে, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আটকে পড়া বাকি সব পর্যটকদের শুক্রবার ( ১০ জুলাই) সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে এখনো জেলার একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় অতিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৩৯২ জন মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে । প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের পক্ষ থেকেও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনদের খাবার বিতরণ করা হয়। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী এড. দীপেন দেওয়ান এমপি নানিয়ারচর উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। এছাড়াও দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক লোকের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । বাঘাইছড়িতে বর্তমানে ১২৯টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে, যাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে । 

আরও পড়ুন

তথ্যমতে, বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোট ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৫১৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যার মধ্যে নিউ লাল্যঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রেই এককভাবে ১ হাজার ১০০ জন মানুষ অবস্থান করছেন । এদিকে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে । রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০৯ জন এবং রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ৪০ জন আশ্রয় নিয়েছেন । এছাড়া কাউখালী উপজেলার আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬০ জন, কাপ্তাই উপজেলার ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯৮ জন, বিলাইছড়ি উপজেলার ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন, বরকল উপজেলার ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১১৮ জন, রাজস্থলী উপজেলার তাইতং পাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন, নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসায় ৩৩ জন এবং জুরাছড়ি উপজেলার জামুড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন । 

দুর্যোগের কারণে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে । জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় মোট পাহাড় ধসের সংখ্যা ১০৪ টি, যেখানে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ৩টি, বাঘাইছড়িতে ১৫টি, রাঙ্গামাটি সদরে ১৩টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং লংগদুতে ৪টি পাহাড় ধসের ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ হয়েছে । 

বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত সকল লোকজনকে প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি প্রদান করা হচ্ছে । একই সাথে বন্যা ও দুর্যোগ কবলিত এলাকার পানিবন্দি সাধারণ মানুষকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে । পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে বা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে ।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission