থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে গেলেন নারী আসামি 

মাদারীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৫৩ পিএম


থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে গেলেন নারী আসামি 
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর মডেল থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙে গ্রেপ্তার হওয়া এক নারী আসামি পালিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সদর মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ (ডিউটি অফিসার) দুইজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান। 

পালিয়ে যাওয়া ওই নারী আসামি নাম হাসিনা বেগম (৩৫)। তিনি মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।

আরও পড়ুন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ী ভাবে সদর থানার ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকলেও বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। সকালে থানা হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনা জানাজানি হলে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক ও বৃহস্পতিবার রাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেন জেলার পুলিশ সুপার।

পালিয়ে যাওয়া আসামি ব্যাপারে জানতে চাইলে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান বলেন, 'আমি কথা বলতে পারি না। আলফা ফাইভের সঙ্গে কথা বলেন। আমার কথা বলা নিষেধ।'

এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূনাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে বলেন, 'ওসির বাসভবনটি থানার অস্থায়ী ভাবে কার্যক্রম চালু আছে। ওই ভবনের বারান্দায় আসামি রাখা হয়েছিল। ওই আসামি বারান্দার গ্রিল ভেঙে চলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য এডিশনাল এসপি ক্রাইমকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তারা রিপোর্ট দিবে। এ ঘটনায় কোন দায়িত্ব অবহেলার ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission