প্যারাগ্লাইডারের পর বিমান বানিয়ে তাক লাগালেন সেই মারুফ

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৯ এএম


প্যারাগ্লাইডারের সাফল্যের পর বিমান বানিয়ে তাক লাগালেন ফরিদপুরের মারুফ
ছবি: আরটিভি

এক বছর আগে নিজ হাতে প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে আকাশে উড়ে আলোচনায় এসেছিলেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের যুবক মারুফ মোল্যা। এবার তিনি নিজস্ব প্রচেষ্টা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় এক আসনের ছোট বিমান তৈরি করে আকাশে উড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

ছোটবেলা থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন লালন করতেন মারুফ। কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রসৈকতে প্যারাগ্লাইডারে মানুষকে উড়তে দেখে তার মনে জন্ম নেয় আকাশ জয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইউটিউব দেখে শুরু করেন প্যারাগ্লাইডার তৈরির কাজ। প্রায় ছয় মাসের চেষ্টার পর গত বছর সফলভাবে প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে আকাশে উড়তে সক্ষম হন তিনি।

পরে মানিকগঞ্জের উদ্ভাবক জুলহাসের তৈরি বিমান আকাশে উড়তে দেখে নিজের বিমান তৈরির ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়। এরপর গত সাত মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম, গবেষণা এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের মাধ্যমে একটি ছোট এক আসনের বিমান তৈরি করেন মারুফ।

সম্প্রতি প্রথমবারের মতো তার তৈরি বিমানটি আকাশে উড়তে সক্ষম হয়। যদিও বিমানটি খুব বেশি উচ্চতায় উঠতে পারেনি, তবুও এটি তার জন্য বড় এক সাফল্য।

পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এসএসসি পাসের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি মারুফ। কিন্তু সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের স্বপ্নকে ছাড়েননি। প্রযুক্তির সহায়তায় ইউটিউব থেকে শেখা জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে তৈরি করেছেন তার উড়োজাহাজ।

বিমানটি তৈরি ও উড্ডয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন তার বাড়িতে। বিমানটি আকাশে ওড়ার সময় শত শত উৎসুক মানুষ তা দেখতে উপস্থিত হন। প্রথমদিকে তার উদ্যোগ নিয়ে নানা সমালোচনা ও কটূক্তি শুনতে হলেও এখন সেই মানুষগুলোর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাস ও গর্বের অনুভূতি।

মারুফ জানান, প্রথমদিকে বিমানটি আকাশে তুলতে ব্যর্থ হলে তিনি মানিকগঞ্জের বিমান নির্মাতা জুলহাসকে আমন্ত্রণ জানান। জুলহাস গিয়ে বিমানটির কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার পরই বিমানটি আকাশে উঠতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন

মারুফ মোল্যা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়ার স্বপ্ন ছিল। গত বছর প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে উড়তে পেরেছি। এবার নিজের তৈরি ছোট বিমান আকাশে তুলতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। এখন চেষ্টা করছি বিমানটিকে আরও উঁচুতে ও নিরাপদভাবে উড়ানোর।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে একটি প্যারাগ্লাইডার আনতে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়। আমি মাত্র এক লাখ টাকায় প্যারাগ্লাইডার তৈরি করেছি। আর ছোট বিমানটি তৈরি করতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। সরকারের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত বিমান তৈরি করতে চাই।

চরবিষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মারুফের মধ্যে অসাধারণ উদ্ভাবনী মেধা রয়েছে। যথাযথ সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পেলে সে শুধু সদরপুর নয়, পুরো দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনতে পারে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission