খাবার খাওয়ার সাথে ঘুষও খাচ্ছেন রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৩৭ এএম


খাবার খাওয়ার সাথে ঘুষও খাচ্ছেন রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার
রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা। ছবি: সংগৃহীত

জমির দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন ও রেকর্ড সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে আসা সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি অফিস চলাকালীন খাবার খাওয়ার সময়ও ঘুষের টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি সংক্রান্ত নানা সেবা নিতে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে আসেন। তবে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ এগোয় না। দ্রুত সেবা কিংবা প্রয়োজনীয় নথি পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, খাবার খাওয়ার সময়ও তিনি টেবিলে বসেই টাকা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রার অফিসে একটি অসাধু চক্র ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ কিংবা অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে অযথা বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা বলেন, জমি সংক্রান্ত জরুরি কাজের প্রয়োজনেই অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেন। ভোগান্তি ও হয়রানির আশঙ্কায় অধিকাংশই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। ফলে বছরের পর বছর ধরে অনিয়মের এই সংস্কৃতি চলতেই আছে।

তাদের দাবি, সরকারি সেবার নামে ঘুষ ও অনিয়মের এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পেতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা মুঠোফোনে বলেন, আমি খাবার খাওয়ার সময় একজন ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল তোলার জন্য আমার কাছে আসেন। তিনি চারটি নকলের সরকারি ফি বাবদ ৪ হাজার টাকা দিয়েছেন। এর বাইরে আমি কোনো অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, যদি কেউ সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

এদিকে, রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
 

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission