চায়ের দোকানে বসা নিয়ে তুমুল মারামারি ও ককটেল বিস্ফোরণ, অতঃপর...

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৯ পিএম


চায়ের দোকানে বসা নিয়ে তুমুল মারামারি ও ককটেল বিস্ফোরণ, অতঃপর...
ছবি: আরটিভি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ মারামারি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে দুই পক্ষের অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর আরটিভির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলাকায় আতঙ্ক তৈরি ও প্রতিপক্ষকে নিজেদের শক্তির জানান দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোমা নিয়ে মহড়া দেওয়ার কিছু ভিডিও ফুটেজ আরটিভির হাতে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের ছোট মূলনা নদীর পাড় সংলগ্ন রুহুল আমিন খাঁর চায়ের দোকানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মালেক ব্যাপারী গ্রুপের সোনামিয়া মাদবরসহ কয়েকজন ছোট মূলনা নদীর পাড়ের ওই চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। এ সময় ফারুক খলিফা গ্রুপের লোকজন তাদের দোকান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুরো এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া ওই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে প্রায় অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ককটেলের আঘাতে ও সংঘর্ষে মালেক ব্যাপারী গ্রুপের বোয়ালিয়া এলাকার পতাই মাদবরের ছেলে সোনামিয়া মাদবর (৩৯) এবং চায়ের দোকানদারের ছেলে বিল্লাল খাঁ (৩৯) গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে, ফারুক খলিফা গ্রুপের শাহজুদ্দিন মাদবর (৪৫) ও হাবিব মাদবর (৪৫) নামের আরও দুইজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এই ঘটনার নেপথ্য খুঁজতে গিয়ে আরটিভির হাতে আসে এই এলাকার বোমা মজুদের কিছু চাঞ্চল্যকর ফুটেজ। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোমা নিয়ে মহড়ার ভিডিও ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে প্রচ্ছন্ন হুমকি ও নিজেদের শক্তির জানান দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল এক পক্ষ।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালেহ্ আহম্মেদ জানান, বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজনের আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি /এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission