চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় আগুন, নিহত ২  

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৩ এএম


চট্টগ্রামে লবণ কারখানায় আগুন, নিহত ২  
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লবণের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে দগ্ধ হয়েছে ১০ জন এবং হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা গেছেন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় আগুন লাগে।

আইসিইউতে থাকা বাকি তিনজনের অবস্থাও ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন তথ্য দিয়েছেন।

নিহত ৩২ বছরের দিদারুল আলম চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের ছেলে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়েছিল।

আরেকজন ৪৫ বছর বয়সি মোহাম্মদ নুরুল আলমের বাড়ি পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামে। তার শরীরে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

১০ জনের মধ্যে পাঁচজন কারখানাটির শ্রমিক এবং বাকি পাঁচজন ঠিকদারের নিয়োগ করা শ্রমিক হিসেবে সেখানে মেরামত কাজ করছিলেন।

ওই ঘটনায় বিকালে পাঁচজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যার দুজন মারা গেলেন।

আরও পড়ুন

দগ্ধ বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

কারখানাটিতে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে পুলিশ বলছে, ওই কারখানার বড় জেনারেটরসহ কয়েকটি যন্ত্র নষ্ট হওয়ায় সেগুলো ঠিক করতে পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে মেরামত কাজ করা হচ্ছিল। তখন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে দুটি এসি বিস্ফোরণ হয়।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, আগুন লাগার বিষয়টি তাদের কাছে ‘গোপন করা হয়েছে’। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কিছুই পায়নি। আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং দগ্ধদের সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং কারখানার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বুঝলাম, তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল।

সেগুলো মেরামত করতে পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। এ কারণে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের একপর্যায়ে সেখানে আগুন লেগে যায়। এতে সেখানে থাকা দুটি এসি বিস্ফোরণ হয়েছে। আর এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে সেখানে যারা ছিল তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগুন লাগার বিষয়টা আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। হাইড করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গিয়েও কিছু পায়নি। পরে আমরা শুনলাম, দগ্ধ হয়ে ১০ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।”

আরটিভ/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission