মানিকগঞ্জে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা। মানিকগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জেলায় মোট ৪ হাজার ৯৬৭টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়। একই বছরে তালাকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৬০টি। ২০২৫ সালে বিয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০৩টিতে। পাশাপাশি তালাকের সংখ্যাও বেড়ে হয় ২ হাজার ৫৮টি।
পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬টি করে সংসার ভাঙছে। বিষয়টি শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়, বরং পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পারিবারিক জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কার্যকর যোগাযোগের অভাব বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক কলহ, সামাজিক পরিবর্তন এবং অল্প বয়সে বিয়েও এ প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল বাছেদ বলেন, মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় ধৈর্য কমে গেছে।
তার মতে, ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামান্য সমস্যাতেই অনেক দম্পতি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তিনি জানান, তাদের ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি তালাকের আবেদন জমা পড়ে।
মানিকগঞ্জ জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, জেলার সব বিয়ে ও তালাকের তথ্য জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা পড়ে না। অনেক কাজি বিকল্প নিবন্ধন বই ব্যবহার করায় প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
তার দাবি, সরকারি তথ্যের তুলনায় প্রকৃত বিয়ে ও তালাকের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হতে পারে।
তিনি জানান, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই তালাকের উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি স্বামীদের মাদকাসক্তিকে দায়ী করেন।
মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) শাহিনুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে পরকীয়ার সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে। এছাড়া মাদকাসক্তি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব, সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতাও বিয়ে বিচ্ছেদের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পেলে বিয়ে বিচ্ছেদের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরটিভি/এমএইচজে




