নাটোরের লালপুরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর তাদের বাবাও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
মৃত দুই শিশু হলো- তুহিন (৮) এবং তার ছোট ভাই তুষার (৪)। তারা উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুন পাড়া গ্রামের মরজেম আলীর (৩৫) সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৩ জুলাই মরজেম আলীর স্ত্রী তুলি বেগম বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে মরজেম আলী তার দুই ছেলেকে নিয়ে একাই বাড়িতে থাকছিলেন। ১৬ জুলাই রাতে মরজেম আলীর বড় ছেলে তুহিন কলা-চিড়া এবং মরজেম আলী ও তার ছোট ছেলে তুষার আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ তুহিন বমি করতে শুরু করলে তার বাবা প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তুহিনকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিন সকালেই তুহিনের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে বড় ছেলের দাফনের দিন দুপুরে ছোট ছেলে তুষারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি ও অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকেও দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে তুষারের মৃত্যু হয়।
সকালে ছোট ছেলের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরই বাবা মরজেম আলীও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু এবং এরপরই তাদের বাবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছোট ছেলে তুষারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে দুই সন্তানের মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
আরটিভি/এমএইচজে




