সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে বন্ধুর সহযোগিতায় শ্রুতি লেখন পদ্ধতিতে এবার ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন তালুকদার।
চয়ন জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের নিতাই তালুকদারের ছেলে।
রোববার (১৯ জুলাই) আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় যাওয়ার সময় চয়ন বলেন, সমবয়সী ছোট বোনের সহযোগিতায় আমি এতদূর আসতে পেরেছি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আমার বেশ আগ্রহ ছিল। দু-চোখ অন্ধ থাকায় পড়ালেখা অনিশ্চিত ছিল। সমবয়সী ছোট বোন যখন পড়তে বসত, তখন তার পাশে বসে শুনে শুনে আমি পড়া শিখে ফেলতাম। পরে আমি ওই পড়া বলতাম, অন্যজন লিখে দিত। এভাবে আমি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ডিগ্রিতে ভর্তি হই।
তিনি জানান, তাকে শ্রুতি লেখনে সহায়তা করেন বন্ধু জাহেদ মিয়া। এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বন্ধু মাজহারুল ইসলাম শ্রুতি লেখনের দায়িত্ব পালন করেন।
চয়নের শ্রুতিলেখক জাহেদ মিয়া বলেন, চয়ন বলে দেয় আমি শুধু খাতায় লিখে দিই। এতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয় না। সে পড়ায় ভালো। তাকে সহযোগিতা করতে আমারও ভালো লাগে।
চয়নের বাবা নিতাই তালুকদার বলেন, জন্মগতভাবেই চয়নের দুই চোখ অন্ধ। তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তার আগ্রহ ছিল। ভাইবোন মিলে একসঙ্গে পড়ালেখা করে এবার দুজন ডিগ্রি পরীক্ষা দিচ্ছে। অভাব-অনটনের কারণে ঠিকমতো তাদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে পারছি না। তবুও তাদের স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সুরঞ্জিত কুমার সেন বলেন, চয়নকে শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখনের অনুমতি এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তার সফলতা কামনা করছি।
আরটিভি/এমএইচজে




