নাটোরের লালপুর উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৪০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে টিকার তীব্র সংকট, পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব এবং দ্রুত সংক্রমণের কারণে প্রতিদিনই গবাদিপশু হারাচ্ছেন খামারিরা। এতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত ক্ষুদ্র খামারি।
উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওশারা সুলতানপুর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি ও দিনমজুর মো. ফিরোজ আলী গণমাধ্যমকে জানান, একসময় তার পাঁচটি গরু ছিল। লাম্পি রোগের কারণে লোকসানে সেগুলো বিক্রি করে তিনটি নতুন গরু কেনেন। কিন্তু এর মধ্যে একটি গরুর তিন মাস বয়সি বাছুরটি ২৭ দিন ধরে লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে আছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর চিকিৎসা না পেয়ে তিনি ঝাড়ফুঁক, হোমিওপ্যাথি ও নিজ খরচে টিকা দিয়ে গরুগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
তার দাবি, সময়মতো সরকারি টিকা পাওয়া গেলে এত ক্ষতি হত না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা তীরবর্তী বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে প্রথম সংক্রমণ শুরু হয়। স্থানীয় কৃষক বিল্লাল আলীর দুটি গরু মারা যাওয়ার পর এক মাসের ব্যবধানে মহারাজপুর, নাগশোষা, কাজীপাড়া, ঘোষপাড়া ও নওশারা সুলতানপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দ্রুত রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় পশু চিকিৎসক মোসলেম উদ্দিন জানান, শুধু বিলমাড়িয়া ইউনিয়নেই গত এক মাসে ৪৫ থেকে ৫০টি গরু মারা গেছে এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবের চেয়ে স্থানীয়দের দাবি প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
নওশারা সুলতানপুর গ্রামের মো. নুর নবী ঘোষ জানান, তার খামারের ছয়টি গরু মারা গেছে এবং আরও তিনটি আক্রান্ত রয়েছে। একই গ্রামের টুটুল ইসলাম, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের ফিরোজ আলী, শাহানাজ পারভীন, আড়বাব ইউনিয়নের মোস্তফাসহ অনেক খামারি অভিযোগ করেন, পশু হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে হোমিওপ্যাথি, নিমপাতা, ধূপ ও অন্যান্য ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসার চেষ্টা করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, লালপুরে মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি। এর মধ্যে প্রায় ২১ হাজার গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু আক্রান্ত। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫০ ডোজ। ফলে বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু তথ্যে গরমিল থাকতে পারে। প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জুলাই মাসের জন্য ২৫ হাজার ডোজ টিকার চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো কোনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শুভ কুমার দাস খামারিদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে লালপুরে লাম্পি রোগের এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
আরটিভি/এমএইচজে




