সবেদা চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন সদরপুরের কৃষকরা

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৬ পিএম


সবেদা চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন সদরপুরের কৃষকরা
ছবি: আরটিভি

রসালো, মিষ্টি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সবেদা এখন আর শুধু বাড়ির আঙিনার ফল নয়; এটি পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফসলে। একসময় বাড়ির উঠান, পুকুরপাড় কিংবা জমির আইলে শখের বশে সবেদা গাছ লাগানো হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা বাড়ায় অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে এর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সবেদা চাষের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে সাধারণত কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। ফল পাকানোর জন্যও কৃত্রিম রাসায়নিকের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ফল হিসেবে এটি ক্রেতাদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সবেদায় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও জিংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী হওয়ায় ফলটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হিসেবে পরিচিত।

সবেদার ইংরেজি নাম Sapodilla এবং বৈজ্ঞানিক নাম Manilkara zapota। বহুবর্ষজীবী এই চিরসবুজ গাছ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটিতে সহজেই বেড়ে ওঠে। রোপণের প্রায় দুই বছর পর থেকেই গাছে ফল আসতে শুরু করে।

জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবেদার চাষ হয়। কৃষকদের মতে, একটি পরিণত গাছ থেকে বছরে গড়ে ৪ থেকে ৫ বস্তা ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি বস্তার ওজন প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কেজি। ফলের আকার ও মানভেদে প্রতি বস্তা ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে পাইকাররা কিনে নেন। অনেক ব্যবসায়ী মৌসুম শুরুর আগেই গাছ বা পুরো বাগান চুক্তিভিত্তিক কিনে রাখেন।

সবেদার মৌসুম সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত। তবে জাত ও আবহাওয়ার ভিন্নতায় কিছু গাছে প্রায় সারা বছরই ফল ধরে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সদরপুরের সবেদা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে একাধিক ফলের আড়ত, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিশেষ করে সদরপুরের আটরশি এলাকার সবেদা স্বাদ ও মিষ্টতায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। এ কারণে অনেক সময় অন্য এলাকার সবেদাও 'আটরশির সবেদা' নামে বাজারজাত করা হয়।

আরও পড়ুন

সদর ইউনিয়নের ফল ব্যবসায়ী খলীল বেপারী বলেন, সবেদা উৎপাদনে কোনো রাসায়নিক লাগে না। প্রতি ৮২ কেজির বস্তা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

ব্যবসায়ী আহম্মদ বেপারী বলেন, রাসায়নিক ছাড়াই এই ফলের আবাদ হয়। তবে চলতি বছরের ঝড়ে অনেক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে কৃষকরা আরও বেশি সবেদা চাষে আগ্রহী হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, সবেদা সদরপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী ফল। কোনো কীটনাশক ছাড়াই এর উৎপাদন সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে সবেদার বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission