চেক পোস্ট বসিয়ে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। তাদের মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, আসিফকে গ্রেপ্তারের সময় তার কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে আরিফের প্যান্টের পকেট থেকে আরও দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি নিজেদের ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে পরিচয় দেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দুই সহযোগীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে বুধবার যশোরের ঝিকরগাছায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন তথ্য ছিল যশোর পুলিশের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। বুধবার ভোরে সন্দেহ হলে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালালে ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। ইমনের আলোচিত গোফ কেটে ফেলায় পুলিশের চিনতে বেগ পেতে হয়। পরে এক পর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অপরাধ রেকর্ড অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ডাবল মার্ডার (জোড়া খুন) এবং চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকা চাঁদা দাবির হামলাসহ অন্তত সাতটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির চক্র সচল রাখার পেছনে তার মূল ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরটিভি/এমএইচজে




