ঘরে ঝুলছিল স্ত্রীর মরদেহ, নিখোঁজ স্বামী

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ০৫:০১ পিএম


ঘরে স্ত্রীর মরদেহ রেখে উধাও স্বামী
নিহত সুমাইয়া শিমু। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে সুমাইয়ার স্বামী মো. জসীম কাজী গা-ঢাকা দিয়েছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়াকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার শৈলমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত সুমাইয়া শিমু শৈলমারী গ্রামের মো. মোস্তফা শেখের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার স্বামী জসীম কাজী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ২০১৮ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির শামিউল বারী (৬) নামে একটি ছেলে রয়েছে।

জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। শুক্রবার দুপুরের দিকে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর সুমাইয়া পাশের পাকুড়িয়া গ্রামে তার মেজ বোনের বাড়িতে ছেলেকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ির দিকে চলে যান। পরে তাকে কোথাও পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সুমাইয়ার ছোট বোন মিম খাতুন অভিযোগ করে বলেন, জসীম কাঠমিস্ত্রির কাজ করলেও নিয়মিত কাজ করতেন না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং জসীম বাড়ির কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

মিম খাতুনের ভাষ্য, বিষয়টি জানতে পেরে তারা জসীমকে সুমাইয়াকে খুঁজতে বলেন। এ সময় জসীম তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে বলেন- সুমাইয়া বাড়িতে আসুক, পেট্রোল এনে ঘরে আগুন দিয়ে সব জ্বলিয়ে দেব।

পরিবারের সদস্যরা জানান, এ কথার পর তারা উদ্বিগ্ন হয়ে সুমাইয়াকে আশপাশে খুঁজতে থাকেন। মাগরিবের আগে জসীমের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালা দেওয়া দেখতে পান তারা। পরে সন্ধ্যার দিকে জসীম ফোন করে সুমাইয়ার এক স্বজনকে জানান, সুমাইয়া গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে গিয়ে সুমাইয়ার মরদেহ ঘরের আঁড়ার সঙ্গে শাড়ির ছেঁড়া পাড় দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান।

তাদের দাবি, মরদেহটির পা মেঝেতে লেগে ছিল। এ অবস্থায় তারা সুমাইয়ার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সুমাইয়ার আরেক বোন মোছা. সুরাইয়া বলেন, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। ঘটনার আগে সে ছেলেকে বোনের বাড়িতে রেখে এসেছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

আরও পড়ুন

এ ঘটনার পর থেকে জসীম কাজী ও তার পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এটিকে হত্যা বলে দাবি করছেন। তারা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।

তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগ, প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission