নিখোঁজের তিনদিন পর পুকুরে ভেসে উঠল গোলাপির মরদেহ 

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:৩৬ পিএম


নিখোঁজের তিনদিন পর পুকুরে ভেসে উঠল গোলাপির মরদেহ 
প্রতীকী ছবি

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নিখোঁজের তিনদিন পর গোলাপি খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো একটি কংক্রিটের ব্লকের খণ্ডিত অংশ বাঁধা ছিল। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর নামক এলাকার একটি ডোবার পানি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বামীর মামাতো ভাইদের সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে করা একটি মামলার বাদী ছিলেন ওই গৃহবধূ। মামলা প্রত্যাহার করার জন্য আসামিপক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বামী এবং বাবার বাড়ির লোকজন।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত গোলাপি খাতুন সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের প্রবাস ফেরত সৈয়দ আলীর স্ত্রী। স্বামীর মামাতো ভাইদের সঙ্গে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গোলাপিকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বামী এবং বাবার বাড়ির লোকজন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে রৌমারী থানায় মামলা করেছেন।

নিহতের স্বামী সৈয়দ আলী ও ভাই বেলাল দাবি করেন, সৈয়দ আলীর মামাতো ভাই মতিন, হাসিনুর, মহর, আছমত ও সাহার আলী গংদের সঙ্গে ক্রয়কৃত একটি জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। সৈয়দ আলী প্রবাসে থাকায় এ ঘটনায় গোলাপি খাতুন বাদী হয়ে হাসিনুর-মতিন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সৈয়দ আলী দেশে ফেরার পর এ নিয়ে দফায় দফায় সালিশ হয়। স্থানীয় মাতব্বররা গোলাপিকে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দেন।

আরও পড়ুন

সৈয়দ আলী বলেন, মামলা প্রত্যাহারে বিলম্ব হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে হাসিনুর-মতিন গং আমাদের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদেরকে নিজ বাড়িতে উঠতে বাধা দেয়। তাদের ভয়ে আমরা বারবান্দা গ্রামে আমার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেই। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তারা গোলাপিকে বাড়িতে ওঠার কথা বলে ফোনে ডেকে নেয়। পরে হাসিনুরের বাড়িতে জিম্মি করে রাখে। সন্ধ্যায় আমি স্ত্রীর খোঁজ করলে গোলাপি তাদের কাছে নেই বলে জানায় হাসিনুর-মতিন গং। এরপর বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও স্ত্রীর সন্ধান পাইনি। দুইদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে শুনতে পাই যে গোলাপির লাশ পাওয়া গেছে।

নিহতের ভাই বেলাল বলেন, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পানিতে ফেলা হয়েছিল। আমি মামলা করেছি। জড়িত সবার দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি চাই।

ওসি কাওছার আলী বলেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission