বাবা জুতা সেলাই করছেন, পাশে বই পড়ছে ছেলে-মেয়ে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১২:১৩ পিএম


বাবা জুতা সেলাই করছেন, পাশে বই পড়ছে ছেলে-মেয়ে
সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্নই বাবার জীবনের প্রধান প্রেরণা। ছবি: আরটিভি

মানিকগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে ফুটপাতের এক কোণে খোলা আকাশের নিচে বসে জুতা সেলাই করেন সাগর রবিদাস। চারপাশে মানুষের ব্যস্ততা আর কোলাহলের মাঝেই তার পাশে বসে বই খুলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ছোট্ট ছেলে প্রিয়জিত রবিদাস। দারিদ্র্যের কষাঘাত সত্ত্বেও তার স্বপ্ন— একদিন ডাক্তার হওয়া।

প্রিয়জিত মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা। সে মানিকগঞ্জ ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সাগর রবিদাস পেশায় একজন চর্মকার। দীর্ঘদিন ধরে আদালত চত্বরে জুতা সেলাই করে তিনি পরিবার চালাচ্ছেন। নিজে কখনও স্কুলের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও, সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্নই তার জীবনের প্রধান প্রেরণা।

অভাবের কারণে প্রিয়জিতকে প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের। তাই স্কুল ছুটি হলেই সে বাবার কর্মস্থলে চলে যায়। সেখানে বসেই বাবার পাশে বই খুলে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। বাবা যেমন কাজ করেন, তেমনি ফাঁকে ফাঁকে সন্তানদের পড়ালেখায় সহায়তা করার চেষ্টা করেন।

শুধু প্রিয়জিত নয়, তার ছোট বোন রাখি রাণী রবিদাস দিয়াও পড়াশোনায় আগ্রহী। দিয়া শাহীন স্কুলের প্লে শ্রেণির এই শিক্ষার্থীও প্রায়ই বাবার পাশে বসে খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করে।

চার সদস্যের পরিবারে সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এই কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্নে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন সাগর রবিদাস।

স্থানীয়রা জানান, সাগর রবিদাস দীর্ঘদিন ধরে আদালত চত্বরে জুতা সেলাইয়ের কাজ করছেন। তার সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও বাবার সংগ্রাম অনেককেই অনুপ্রাণিত করে। মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, তিনি তার সন্তানদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান। আমরা তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

এ বিষয়ে ৪ নম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মাহফুজ বলেন, সাগর রবিদাস নিজে শিক্ষিত না হলেও সন্তানদের শিক্ষিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমাজের সচ্ছল মানুষ ও আইনজীবীরা এগিয়ে এলে এই শিশুর স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।

প্রিয়জিতের কাছে জানতে চাইলে সে নির্ভীক কণ্ঠে বলে, আমি বড় হয়ে ডাক্তার হব।

প্রিয়জিত রবিদাস এর মা শিল্পি রবিদাস বলেন, পোলাপানরে পড়াইবার চাই। পোলাপাইনরে যেনো মানুষের মতো মানুষ করবার পারি। আমরা স্বামী স্ত্রী লেখাপড়া করি নাই, পোলাপাইনরে পড়ালেখা করাইয়া মানুষ করবার চাই।  

আদালত চত্বরে জুতা সেলাই-এর কাজ করা সাগর রবিদাস বলেন, আমি অশিক্ষিত, আমার বউ অশিক্ষিত। আমি চাই ওরা যেন অশিক্ষিত না হয়, ওরা যেন শিক্ষিত হতে পারে। খোলা আকাশের নিচে জুতার কাজ করি, ছেলে স্কুল শেষে এখানে আসে, দোকানে বসাই লেখাপড়া করাই।

আরও পড়ুন

মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তার আর্থিক অবস্থা খারাপ। আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করব।  

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission