খোকনের ‘অত্যাচারে’ নাজেহাল মা ও দুই বোন

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:০৩ পিএম


খোকনের ‘অত্যাচারে’ নাজেহাল মা ও দুই বোন
ছবি: আরটিভি

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের মোহনপুর মৈশান বাড়িতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে অসহায় মা ও দুই বোনের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আনিছুর রহমান খোকন নামে এক হোমিও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর ধরে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহম্মদ মৈশানের স্ত্রী মফুজা আক্তারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করছেন না ছেলে আনিছুর রহমান খোকন। বরং পারিবারিক জমি ও দোকানপাট থেকে প্রাপ্ত আয় একাই ভোগ করছেন। এতে মফুজা খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসার জন্য দুই মেয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন একাধিকবার সালিশে বসলেও খোকন অধিকাংশ সালিশে উপস্থিত হননি। পরে সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমিন দিয়ে জমি মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। 

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, খোকন সেই খুঁটি উপড়ে ফেলেন। এছাড়া বোনদের অংশের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায়, গাছ কাটা এবং বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মফুজা আক্তারের বড় মেয়ে মাকসুদা আক্তার ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার দেবিদ্বার সাহারপাড় গাউসুল আযম দাখিল মাদরাসার এমপিওভুক্ত সহকারী মৌলভী।

মেয়ে মরিয়ম আক্তার জানান, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুসারে ওয়ারিশদের নামে সম্পত্তি খারিজ করা হয়। এরপরও খোকন আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় তারা বিজয়ী হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে পুনরায় সালিশ অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে মিলেমিশে থাকার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি আবারও বিরোধ সৃষ্টি করেন।

তিনি আরও জানান, মা-বোনের নিরাপত্তা ও সালিশের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাতাঘাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ছাদেকুর রহমান শুক্রবার (৩১ জুলাই) নিজে উপস্থিত থেকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করান। কিন্তু দুই দিনের মাথায় রোববার দিবাগত রাতে সেই দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

আরেক মেয়ে মাকসুদা আক্তার অভিযোগ করেন, তার ছোট বোন কর্মস্থলে থাকলে মা বাড়িতে একা থাকেন। এর আগেও খোকনের স্ত্রী মায়ের গায়ে হাত তুলেছেন এবং প্রায়ই গালিগালাজ করতেন। এতে তারা মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

আরও পড়ুন

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আনিছুর রহমান খোকন বলেন, আমার চার বছরের বাচ্চা বাথরুমে যেতে পারছিল না। সীমানাপ্রাচীর (ওয়াল) থাকায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। তাই আমি নিজেই দেয়ালের একটি অংশ ভেঙেছি। তারা বাথরুম সরানোর জন্য আমাকে কোনো সময় দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে মরিয়ম আক্তার বলেন, গত ৫ জুলাই এক সালিশে তার সব স্থাপনা সরাতে বলা হয়েছে৷ তিনি তা না করে আমাদের জায়গায় নতুন আরেকটি দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে বাতাঘাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ছাদেকুর রহমান বলেন, আমি নিজেই নির্দেশ দিয়েছি, দেয়াল নির্মাণকাজ চলমান থাকবে। যারা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission